চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) আয়, মুনাফা ও নগদ প্রবাহ—এই তিন সূচকেই চাপে পড়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়াল বাংলাদেশ পিএসসি। অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি আয় কমার পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহও নেতিবাচক হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫.৩৩ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭.৫৮ টাকা—অর্থাৎ এক বছরে ইপিএস ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৭৬ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬.৯১ টাকা। ফলে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে নেতিবাচক হয়েছে, যা ব্যবসায়িক চাপে থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে, প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে হয়েছে ২৬৫.৯১ টাকা, যা ২০২৫ সালের মার্চ শেষে ছিল ২৬০.৫৮ টাকা—অর্থাৎ সম্পদমূল্যে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ইপিএস কমে যাওয়া এবং নগদ প্রবাহ নেতিবাচক হওয়া—দুই সূচকই কোম্পানির অপারেশনাল চাপে থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিশেষ করে নগদ প্রবাহে এই পতন ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও দায় পরিশোধ সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের নির্মাণ খাতে ধীরগতি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় সিমেন্টের চাহিদা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি, ক্লিংকার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি—যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়াল বাংলাদেশ পিএসসি-এর মতো বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর, যারা তুলনামূলক উচ্চ মানের কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল।
