কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩৬ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদুকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে গত ৪ জানয়ারি মামলা হয়েছে। ওই দিনই তার পরিবারের সদস্যদের স্ত্রীসহ ৩ জনের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তাদের ঠিকানায় না পাওয়া যায়নি। সে নোটিশ কেউ গ্রহণ করেনি। বিধায় নতুন করে তাদের ঠিকানায় লটকিয় নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন।’
দুদকের বিশেষ তদন্তের নথি অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামেও জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে বা বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে দুদক তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের নামে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকা বেশি সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। একইভাবে আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার সম্পদের সন্ধান মিলেছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিম, ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাঈম এবং মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়াকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হবে। তাদের নামে বা বেনামে থাকা অন্য কোনো সম্পদের তথ্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি অনুসন্ধান দল বিষয়টি তদন্ত করেছে। উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই দলে সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মাদ অনি সদস্য হিসেবে ছিলেন।
