বাইরে থেকে দেখলে এটি ছিল সাধারণ সিএনজি অটোরিকশার ওয়ার্কশপ। স্থানীয়দের কাছেও সেখানে কর্মরতরা পরিচিত ছিলেন মিস্ত্রি হিসেবে। তবে এই ওয়ার্কশপের আড়ালেই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল অস্ত্র। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে ওসমানের ওই সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানে ওয়ার্কশপ থেকে একটি পেন গানসহ মোট ৫টি অস্ত্র ও ২০ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওয়ার্কশপের আড়ালে সেখানে পেনগান ও পিস্তলের আদলে এলজি বানানো হতো। দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো পেন গান জব্দের ঘটনা চট্টগ্রামের এটিই প্রথম। মঙ্গলবার হাটহাজারীতে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এসব কথা জানান।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ওয়ার্কশপ থেকে জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবির (৪৭) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সিএনজি ওয়ার্কশপের আড়ালে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অস্ত্র তৈরি করে আসছিল। পরে এসব অস্ত্র বিক্রিও করা হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ বলেন, অস্ত্র তৈরির মূল কারিগর ওসমান। অস্ত্র তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি দক্ষ। চট্টগ্রামে এটাই প্রথম পেনগান উদ্ধারের ঘটনা বলে জানান তিনি।
অস্ত্রগুলোর একটি বিশেষত্ব হলো একটি অস্ত্রে পিস্তলের গুলিও ব্যবহার করা যায়, শটগানের বুলেটও ব্যবহার করা যায়। অস্ত্র বানানোর পর ৩ জনের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। আকার ও কার্যকারিতা ভেদে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় এগুলো বিক্রি হতো, বলেন তিনি। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, অস্ত্র বানানোর এই প্রশিক্ষণ তারা কীভাবে রপ্ত করল, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে। ওসমানকে পুলিশ আটকের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় হাটহাজারী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে।
এর আগে, গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় এক যুবদলকর্মীকে গুলির ঘটনার পর দেশে প্রথমবারের মতো পেনগান উদ্ধারের দাবি করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, এটি গতানুগতিক অস্ত্রের মতো। এগুলো বহন করা সহজ এবং ধরা পরার ভয় অনেক কম।
