যেভাবে গায়েব হলো ৩ কোটি টাকার কনটেইনার

জাল স্বাক্ষর, ভুয়া সিল

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার বের করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার আমদানি করা ওই চালানটি সরিয়ে নিতে বন্দরের ডিজিটাল সিস্টেমে ভুয়া স্বাক্ষর, জাল সিল ও এক কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তা ও পুলিশ।

বন্দর থানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) এক পরিবহন পরিদর্শকের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে একটি ট্রেইলারে কনটেইনারটি বোঝাই করে বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ‘প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দুই জেটি কর্মী মো. মোর্শেদ আলম ও মো. সাইদুর রহমানকে অভিযুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল রেকর্ড ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে থাকা বড় ধরনের ফাঁকফোকর সামনে এনেছে। বন্দরের নিজস্ব ‘এন৪’ সিস্টেমে কনটেইনারটি ছাড়ের রেকর্ড থাকলেও, অনুমোদনের জন্য ব্যবহৃত নথি ও স্বাক্ষর ছিল জাল। সিপিএ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কনটেইনার নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গত সোমবার রাতে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্সির দুই কর্মীকে শনাক্ত করে আটক করেছে। পরে মঙ্গলবার সকালে তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম নিশ্চিত করেছেন যে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দুই সিঅ্যান্ডএফ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার সাথে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন প্যারামাউন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শিহাব চৌধুরী বিপ্লব। তিনি বলেন, অভিযুক্ত দুই কর্মীকে ওই নির্দিষ্ট কনটেইনার খালাসের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। বিপ্লব দাবি করেন, ‘আমার লাইসেন্সের আওতায় বা আমার জানামতে এমন কিছুই ঘটেনি।’

আমদানি করা এই কনটেইনারটি ‘গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর। চালানটি খালাসের দায়িত্বে থাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এসআরএস সিন্ডিকেট লিমিটেড’ চুরির ১৯ দিন পর গত ৩০ আগস্ট সিসিটি (চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল) ইয়ার্ডে গিয়ে দেখতে পায় যে কনটেইনারটি উধাও হয়ে গেছে। এরপর গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, বন্দর কর্মচারী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া বন্দর থেকে কোনোভাবেই কোনো কনটেইনার বের করে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া একটি কনটেইনার খালাস করা অসম্ভব। কেবল সাধারণ কর্মচারীদের আটক করে তদন্তের মূল গতিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’ তিনি পুরো ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।