প্রতি ১০ পুরুষের একজন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে

কোনো উপসর্গ না থাকলেও শরীরে নীরবে বেড়ে উঠতে পারে ক্যান্সার। একপর্যায়ে তা মেরুদণ্ড, পাঁজর কিংবা খুলির হাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার এমন ঘটনাই ঘটছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় একজন এ রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ মিলন চত্বরে আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স (বিএইউএস) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা এবং সময়মতো রোগ শনাক্ত করা। প্রথম অবস্থায় রোগটি ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের সুযোগ বেশি থাকে। তবে দেরি হলে ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার অন্যতম প্রধান ক্যান্সার। উদ্বেগের বিষয় হলো রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষরা প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্তকরণে রক্তের সিরাম পিএসএ পরীক্ষা জরুরি। যদিও শুধু পিএসএ পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই ও বায়োপসি করতে হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, ‘প্রোস্টেট ক্যান্সার অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হচ্ছে।’

বিএইউএসের সায়েন্টিফিক পার্টের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নাছির উদ্দিন কাজল বলেন, ‘৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের নিকটাত্মীয়ের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসা প্রয়োজন।’ বিএইউএসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘সময়মতো শনাক্ত করা গেলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।’