চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৬ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ শতাংশ অর্জিত হলেও শহরাঞ্চলে এখনও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার রিয়াদ মাহমুদ এ তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে দেশে চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রিয়াদ মাহমুদ জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৭৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় অর্জন। তবে মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং ডেটা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শহর এলাকায় বিশেষ করে বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু এখনো টিকা পায়নি। অন্যদিকে গ্রামে এই বাদ পড়ার হার প্রায় ১৫ শতাংশ।’
ক্যাম্পেইনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এলেও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামের প্রথম ডোজের কভারেজ ৮৬ শতাংশ হলেও দ্বিতীয় ডোজে তা কমে ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার রিয়াদ মাহমুদ বলেন, রুটিন টিকাদানে এই ১৯ শতাংশ ঘাটতি পূরণ না হলে বারবার ক্যাম্পেইন চালিয়েও শিশু মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে না। তিনি আরও জানান, দেশের রোগ নির্ণয় ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে; সব পরীক্ষা ঢাকায় করা সম্ভব নয়। এ কারণে প্রতিটি বিভাগে ল্যাব সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে ইউনিসেফ আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সম্প্রতি হামে ৩০০ শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ ক্যাম্পেইন নয়, এটি জীবন বাঁচানোর লড়াই। কেন তথ্যের গ্যাপ হলো এবং কেন আমরা দেরিতে জানলাম, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ করবে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।’ বৈঠকে টিকার ক্ষেত্রে দাতা সংস্থা গ্যাবি (Gavi) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের (USAID) সহায়তার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে, সেজন্য গণমাধ্যমকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা।
রিয়াদ মাহমুদ সতর্ক করে বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে হবে। যারা এখনো টিকা নেয়নি, তাদের ২০ মে’র মধ্যে টিকাকেন্দ্রে আনার অনুরোধ জানাচ্ছি। আগে টিকা দেওয়া থাকলেও ক্যাম্পেইনের এই বাড়তি ডোজ নেওয়া জরুরি।’ ১৯৭৯ সাল থেকে ইউনিসেফ সরকারকে কারিগরি সহায়তা ও টিকা সরবরাহ করে আসছে। বর্তমানে তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এমআইএস-এর সঙ্গে ড্যাশবোর্ড (CPI.gov.bd/mr) সচল রয়েছে, যেখান থেকে সাংবাদিকরা মুহূর্তেই টিকার সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
