সরকারের মোট ঋণ ২২.৬ লাখ কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৫৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এসময় তিনি বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায়—সরকার কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১০.৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি করে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো। অর্থমন্ত্রী জানান, ঋণ গ্রহণের ব্যয় কমানো, ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিকল্পিতভাবে ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার মিডিয়াম-টার্ম ডেট ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (এমটিডিএস) গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ঋণ পোর্টফোলিও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় ঘোষিত নীতির আলোকে, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যবস্থায় সরকারি বিনিয়োগ থেকে অধিকতর আয় নিশ্চিত হলে— রাজস্ব বাড়বে এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণের প্রয়োজনও কমে আসবে। আমির খসরু বলেন, সুদ ব্যয় কমাতে বিনিয়োগের ধরন বৈচিত্র্যময় করার ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে সুকুক, সম্পদ সিকিউরিটাইজেশনসহ বিকল্প অর্থায়নের বিভিন্ন উপকরণ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উৎস থেকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ অব্যাহত রাখলেও— কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি এবং সহজ শর্তের ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

একই অধিবেশনে এমপি শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৪.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ছিল আসল এবং ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার সুদ পরিশোধ। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে, সরকার গঠনের পর থেকেই বৈদেশিক ঋণকে টেকসই পর্যায়ে রাখার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈদেশিক ঋণসংবলিত সব প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের আগে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রকল্প বিদেশি ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত না হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো—যেন সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।