লিজিং সিকিউরিটিজের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত

স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেডের লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এর আগে একই কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন বন্ধ করে। ডিএসইর সিদ্ধান্তের পর সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসি (সিডিবিএল) কোম্পানিটির ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (ডিপি) কার্যক্রমও স্থগিত করে। গত রোববার এ বিষয়ে সিএসই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে এবং বিষয়টি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সিডিবিএলকে অবহিত করেছে।

সিএসই তাদের চিঠিতে জানায়, সিডিবিএলের ৫ জুলাই ও ডিএসইর ২ জুলাইয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সিডিবিএল কোম্পানিটির ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (ডিপি) কার্যক্রমও স্থগিত করে। এ অবস্থায় সিএসইতেও প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং সিডিবিএলের পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

তথ্য মতে, গত ২ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজের ট্রেডিং কার্যক্রম স্থগিত করে ডিএসই। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদ নবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো ট্রেক হোল্ডার শেয়ার লেনদেন পরিচালনা করতে পারে না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেডিং কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডিএসইর ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ৫ জুলাই সিডিবিএলও প্রতিষ্ঠানটির ডিপি কার্যক্রম স্থগিত করে। ফলে গ্রাহকদের বিও হিসাবসংক্রান্ত বিভিন্ন ডিপোজিটরি সেবাও আপাতত বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ বর্তমানে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নেতিবাচক ইক্যুইটির বোঝা বহন করছে। পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট আর্থিক জালিয়াতির ঘটনার পর মূল প্রতিষ্ঠান এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি বিরাজ করছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেডিং ও ডিপি—উভয় কার্যক্রম একসঙ্গে স্থগিত হলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হলে আগে নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা দূর করে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই এবং সিডিবিএলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নির্দেশনা নিতে হবে। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপি কার্যক্রম স্থগিতই থাকবে। ডিএসই ও সিএসইর বিধিমালা অনুযায়ী, সব ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেটধারী (ট্রেকহোল্ডার) প্রতিষ্ঠানকে ইতিবাচক নিট সম্পদ বজায় রাখতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।