বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে সারা বিশ্বে চলছে উন্মাদনা, যার রেশ লেগেছে বাংলাদেশেও। মাঠে দল না থাকলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই; প্রিয় দল নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিবেশ। অনেক ক্ষেত্রে এই বিরোধ সহিংসতায়ও রূপ নিচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে নিহত। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড়পর্দায় খেলা দেখানোর স্থানগুলোতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নজরদারি জোরদার করবে বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে– এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক– কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।
খেলার বিরোধে ঝরল তিন প্রাণ
গত ১ জুলাই বুধবার একই দিনে ঢাকার আদাবর ও সিলেটের জকিগঞ্জে দুইজন নিহত হন। একই রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকেও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদাবরে বিএনপির নবোদয় হাউজিং ইউনিটের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশার ওপর প্রতিপক্ষের হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আবুল বাশারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশুলিয়ায় নাহিদ হাসান নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া হয়। আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এদিকে একই রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে ফুটবল খেলা ঘিরে উল্লাসের মধ্যে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। জকিগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনজনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পর্শে
পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেছে তিনজনের। গত ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে গাছে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। ১৫ জুন চট্টগ্রামের লালদীঘির পাড় এলাকায় আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে মারা যান রামহরি বৈষ্ণব। আর ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় ফয়সাল নামে একজনের মৃত্যু হয়।
আরও চার মৃত্যু
নড়াইল সদর এলাকায় গত শুক্রবার কিশোরদের ফুটবল খেলা ঘিরে বিরোধের জেরে মোস্তাফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রামের হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়ে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোকে মারা যান খোকন কর্মকার। এর আগে, ১৩ জুন ভোলায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের প্রাণহানি ঘটে।
