রপ্তানির আড়ালে জেমকন গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট ১০২ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই পাচার করা হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ টাকা (প্রায় ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার)। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর এক বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদনহীন বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি চা ও হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির আড়াল এবং ভুয়া রপ্তানির মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে; একই সঙ্গে দেশের ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রুপটির প্রায় ১,৭৭৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–এর তথ্য অনুযায়ী, পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ অন্তত ১০২ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি রেমিট্যান্স হাউসের মাধ্যমে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৭ ডলার (প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯০ টাকা) দেশে এনে মেয়াদোত্তীর্ণ চালানের হিসাব সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে যাদের নাম
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমকন গ্রুপ–এর চেয়ারম্যান আমেনা আহমেদ এবং পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী আনিস আহমেদ সরাসরি এসব অনিয়মে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী অপরাধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জমা দেওয়া গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কাজী আনিস আহমেদের বিদেশি ব্যবসার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ‘অ্যাগনেটা এলএলসি’ নামের একটি পাইকারি গ্রোসারি ও চা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে তার ৭৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই কাজী আনিস আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী নাবিল আহমেদ প্রতিষ্ঠানটিতে ৬১ লাখ ৩৯ হাজার ডলার (প্রায় ৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৮ টাকা) পাঠান; প্রথমে ঋণ হিসেবে পাঠানো এই অর্থ পরে শেয়ারে রূপান্তর করে মালিকানা নেওয়া হয়, যা পুরো বিনিয়োগকেই সরাসরি অর্থপাচার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএফআইইউ।
যুক্তরাজ্য, আমিরাতেও অর্থপাচারের জাল
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ‘টিটুলিয়া ইউকে লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে জেমকন গ্রুপ–এর অবৈধ বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ২০২৩ সালের মে মাসে বন্ধ হয়ে যায়; তবে এর আগেই কাজী আনিস আহমেদ সেখানে ২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫০ টাকা) বিনিয়োগ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে দুবাইভিত্তিক ‘ডাবল কোর এলএলপি’র ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৪ পাউন্ড এবং ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরের ‘গ্লোবাল বিজ ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট’ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৭৬ পাউন্ড টিটুলিয়া ইউকের হিসাবে জমা পড়ে। পাশাপাশি দুবাই ইকোনমির তথ্য অনুযায়ী, ‘ডাবল কোর জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কাজী আনিস আহমেদের ২৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে, যেখানে তার পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৭৫ হাজার দিরহাম (প্রায় ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৪৮ টাকা); বাকি ৭৫ শতাংশ মালিকানা দুবাইয়ের দুই নাগরিকের হাতে এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাতে ভুয়া রপ্তানি
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমকন গ্রুপ–এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জেমিনি সি ফুড লিমিটেড ‘ফ্যান্টম শিপমেন্ট’ বা ভুয়া রপ্তানি চালানের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে চারটি চালানের বিপরীতে ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৫ ডলার (প্রায় ১৭ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা) মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি দেখালেও, পণ্য পাঠানোর প্রায় এক বছর পর সেগুলো আবার দেশে ফেরত আনা হয়। সাধারণভাবে রপ্তানি পণ্য ফেরত এলে তা সবসময় পাচার হিসেবে ধরা না হলেও, বিএফআইইউ একে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের পরিচিত কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে হিমায়িত চিংড়ির মতো পচনশীল পণ্য এত দীর্ঘ সময় পর ফেরত আসাকে সংস্থাটি ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলেছে। তাদের সন্দেহ, বিদেশে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থাকার সুযোগে প্রকৃত পণ্য রপ্তানি না করে কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে ডলার দেশে না এনে দীর্ঘ সময় বিদেশে আটকে রাখতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
চা রপ্তানির আড়ালে পাচার ও রেমিট্যান্স জালিয়াতি
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমকন গ্রুপ–এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাগনেটা এলএলসির কাছে চা রপ্তানি করলেও ৮টি চালানের বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩১২ ডলার (প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ টাকা) দেশে আনেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক উভয়ই কাজী আনিস আহমেদ হওয়ায় এটি পরিকল্পিত অর্থপাচারের ইঙ্গিত দেয়। কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানি মূল্য দেশে ফেরত দেখানো হলেও তা প্রকৃত আমদানিকারকের দেশ থেকে আসেনি; বরং সিঙ্গাপুরের গ্লোবাল বিজ, নাই নাগুন ও বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউসের মাধ্যমে তৃতীয় দেশ থেকে মোট ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৭ ডলার আনা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সন্দেহজনক। বিএফআইইউর ধারণা, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে সেটিকে রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সমন্বয় দেখিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ চালানের হিসাব মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক লেনদেনের ইঙ্গিত বহন করে।
ব্যাংকিং খাতে ঋণের পাহাড়
বিদেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতেও জেমকন গ্রুপের অনিয়মের চিত্র পেয়েছে বিএফআইইউ। ব্যাংক এশিয়াসহ ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রুপটি ২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া জেমকন গ্রুপের ঋণের বড় অংশই মেয়াদোত্তীর্ণ ও সন্দেহজনক। গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পাথর লিমিটেড, জেমকন লিমিটেড, ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন, চরকা এসপিসি পোলস এবং জেমকন ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারের নেওয়া ‘ডিমান্ড লোন’ বা তলবি ঋণের মান এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এক ব্যাংকের ঋণ দিয়ে অন্য ব্যাংকের ঋণ পরিশোধেরও প্রমাণ পেয়েছে বি এফআইইউ। ব্যাংক এশিয়া থেকে নেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে প্রাইম ব্যাংকে র ধানমন্ডি শাখার দায় মেটানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ায় কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থতোলা হয়েছে। জেমকনের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে (বিশেষ করে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশনে) বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে, যা স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওষুধ খাতের অপসোনিন ফার্মা ও বিদ্যুৎ খাতের এনার্জিপ্যাক পাওয়ার থেকেও জেমকনের চা ব্যবসার অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থএসেছে। যদিও এই অর্থতাদের ব্যবসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণনয়। এভাবে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের আসল উৎস গোপন করার চেষ্টা হয়।
আরও তদন্তের সুপারিশ
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, জেমকন গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিদেশে অর্জিত সম্পদ ও বিনিয়োগ বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদনবিহীন হওয়ায় সেগুলোকে ‘পাচারকৃত সম্পত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেমকনের মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং জেমিনি সি ফুডের রহস্যজনক পণ্য ফেরতের বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
দুদকের তিন মামলা
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–এর গোয়েন্দা প্রতিবেদন অপরাধ তদন্ত বিভাগ–এর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ও দুর্নীতি দমন কমিশন–এ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুদক ইতোমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের করেছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিদেশে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। মামলার তথ্যে বলা হয়, কাজী আনিস আহমেদ তার আয়ের উৎসের বাইরে প্রায় ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন এবং ২০০২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে তার ২০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে, কাজী ইনাম আহমেদের বিরুদ্ধে ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং একই সময়ে তার ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৭৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে; কাজী নাবিল আহমেদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এসব মামলা করা হয়েছে। দুদকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেমকন গ্রুপের অর্থপাচার সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং বিদেশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যা বলছেন আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা
বিএফআইইউ প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জেমকন গ্রুপের অর্থপাচার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন সিআইডি ও দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। সংস্থাগুলো অধিকতর তদন্ত করে মামলা করে থাকে। এখন তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর আমাদের আর কিছুকরার থাকে না। তবে সংস্থাগুলো যদি সাহায্য চায়, সে ক্ষেত্রে বিএফআইইউ তাদের সহায়তা করে থাকে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বিএফআইইউর কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে আমার মন্তব্য করার সুযোগ নেই। কারণ এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে নীতিগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। বিনিয়োগ করতে হলে অবশ্যই অনুমোদন নিয়ে করতে হবে। অনুমোদন ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থপাচারের মতো অপরাধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর আওতাধীন এবং তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’ অভিযোগের বিষয়ে জেমকন গ্রুপের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ ও কাজী আনিস আহমেদের সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কাজী ইনাম আহমেদের ফোন বন্ধ থাকায় হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। লিখিত বার্তা পা ঠালেও সাড়া মেলেনি। কাজী আনিস আহমেদের দুবাইয়ের নম্বরে কল ও বার্তা দিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
জেমকনের সিইওর বক্তব্য
এসব বিষয়ে জানতে জেমকন গ্রুপের অফিসে গেলে কাজি ইনাম আহমেদ, কাজি আনিস আহমেদকে পাওয়া যায়নি। দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তারা দুজনই দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানান জেমকন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন খান। তবে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার যোগদানের আগের ঘটনা। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।’
** জেমকন গ্রুপের কাজী আনিসের সম্পদ জব্দ
** জেমকন গ্রুপের ৩৬ কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ
** আনিস-ইনামের ১১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
** কাজী নাবিল পরিবারের ৩৬২ একর জমি ক্রোক
** কাজী নাবিলসহ ১০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ
** জেমকনের কাজী আনিসের ১০ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
