আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে দ্বিতীয় রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও নমনীয় করা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে আনার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইএমএফ। পাশাপাশি ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো প্রণয়নেও এসব সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যৌথ উপস্থাপনায় সম্প্রতি নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কয়েকটি প্রাথমিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিতীয় আরএসএফ কর্মসূচির সম্ভাব্য কাঠামো এবং আগামী অর্থবছরের বাজেটের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ত্বরান্বিত করা, এনবিআরকে পৃথকীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করে দ্বিতীয় ধাপের সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির আওতায় ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মাধ্যমে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও সাফল্য নতুন কর্মসূচির কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে রাজস্ব আহরণে নতুন উদ্যোগ, সরকারি ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ এবং বড় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এছাড়া চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আগামী বাজেটে কোন খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন নিয়োগ, বেতন-ভাতা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিকে একীভূত করে আরও কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমএফ কোনো শর্ত দেয়নি। তারা শুধু জানতে চেয়েছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে কত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং তার অর্থায়ন কীভাবে করা হবে।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচিতে যাবে সরকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে এমন কর্মসূচিতেই আমরা অংশ নেব।’ অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন কর্মসূচিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
