ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ-এর ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৮ টাকা প্রত্যর্পণের আবেদন শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর (ডেডো) নাকচ করেছে। প্রথম দফায় ১৪টি আবেদন বাতিল হওয়ার পর নতুন সাতটিসহ মোট ২১টি আবেদন করা হলেও দ্বিতীয় দফাতেও আগের ১৪টি আবেদন খারিজ করা হয়। নতুন সাতটি আবেদন যাচাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সেগুলোও শেষ পর্যন্ত নাকচ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রপ্তানির ৬ মাসের মধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করতে হয়। কাঁচামাল আমদানিকালে পরিশোধিত শুল্ক পরে পণ্য রপ্তানিকালে প্রত্যর্পণ (ফেরত) করা হয়। রপ্তানির আগেই ডেডোতে সহগ (ইনপুট, আউটপুট ও কো-এফিশিয়েন্ট) দাখিল করতে হয়। সহগ হলো প্রতি ইউনিট পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল ও অপচয়ের হিসাব।
ডেডোর পরিস্থিতি পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিএটি মোট ১৪টি প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে শুল্ক প্রত্যর্পণ বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী এসব আবেদন মঞ্জুরযোগ্য বিবেচিত হয়নি। বিধিমালার ৬(১) ধারা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের সময় সহগ ঘোষণা করে তা অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রত্যর্পণের আবেদন করার কথা থাকলেও বিএটি কোনো সহগ ঘোষণা ছাড়াই আবেদন করে। এ কারণে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, ১ অক্টোবর, ২৮ অক্টোবর এবং ২০২৫ সালের ৪ জুন ও ৮ জুলাইয়ের আবেদনগুলো শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক নাকচ করেন।
পরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর পুনর্বিবেচনার জন্য বিএটি পুনরায় আবেদন করে। ১৪টি আবেদনে প্রত্যর্পণের পরিমাণ ১৪ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৮১৭ টাকা। ৩ ডিসেম্বর পুনরায় আবেদনগুলো নাকচ করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ১৪টি প্রত্যর্পণ আবেদনের মধ্যে ৫, ৭ ও ৯ নম্বর প্রত্যর্পণ আবেদন রপ্তানির ৬ মাসের মধ্যে দাখিল করা হয়নি। ১৪টি আবেদনের কোনোটির ক্ষেত্রেই রপ্তানির আগে সহগ ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর আরো সাতটি প্রত্যর্পণ আবেদন করে বিএটি। এগুলোতে টাকার পরিমাণ ৮ কোটি ২৬ লাখ ৩২ হাজার ১৩২ টাকা। সরজমিন পরিদর্শনের জন্য জরিপ কমিটি করা হয়।
১৪ ডিসেম্বর পরিদর্শনের সময় ডেডোর কর্মকর্তাদের কাছে বিএটি রপ্তানি করা পাঁচটি পণ্যের নমুনা, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং (Lord Red, Pall KS, Cut Rag Tobacco) বা সমজাতীয় পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম উপস্থাপন করতে পারেনি। পরবর্তীতে ডেডোর মহাপরিচালক বিএটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বিএটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, রপ্তানির আগের উৎপাদনকালীন তাদের ইআরপি সিস্টেমে সংরক্ষিত উৎপাদন তথ্য, ব্যবহৃত কাঁচামালের হিসাব এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) দাখিল করা মূসক-৪.৩ ডেডোর কাছে জমা দিতে।
বিএটি এলটিইউতে দাখিল করা মূসক-৪.৩ ডেডোর কাছে জমা দিলেও ইআরপি সিস্টেমের কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ফলে রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের মোট (গ্রস) পরিমাণ ও অপচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, যার কারণে প্রত্যর্পণ মঞ্জুর করা যায়নি। এ কারণেই নতুন সাতটি আবেদনও নাকচ করা হয়, কারণ এসব আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উৎপাদন উপাদানের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং ইআরপি ডাটাও জমা দিতে পারেনি বিএটি। এ বিষয়ে জানতে বুধবার বিএটির জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। তবে বৃহস্পতিবার পুনরায় যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
