ছাদভিত্তিক সৌরবিদুৎ ১০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে

সরকারি হিসাবে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বর্তমানে ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। তবে ছোট প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে প্রকৃত সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আইইইএফএর বলছে, বিভিন্ন প্রকৌশল, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নির্মাণকারী কোম্পানির হাতে এখন ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। অন্যদিকে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নতুন উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে।‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন: এ মাল্টি কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শিরোনামের ওই গবেষণায় বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি সম্পদ (ডিইআর) বলতে ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা সাধারণত বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস এবং ব্যাটারিভিত্তিক বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। আইইইএফএ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও বাংলাদেশ—এই তিন দেশেই বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের প্রধান চালিকাশক্তি হলো ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে এর ব্যাপক বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। বাংলাদেশে শুরুতে এ খাতের অগ্রগতি ধীরগতির হলেও বর্তমানে শিল্প খাতের বাড়তি আগ্রহের কারণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ছিল ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। তবে আইইইএফএর বিশ্লেষণে বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৬৭ মেগাওয়াট সক্ষমতা পাওয়া গেছে। শূন্য দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো হিসাবে নিলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে।

আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক এবং গবেষণাপত্রটির সহলেখক শফিকুল আলম জানান, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ছিল ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর তুলনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি নির্দেশ করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানির কাছে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পাইপলাইন রয়েছে। তবে শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে বড় পরিসরের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।