কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি বয়লার চালু হতে পারে বুধবার রাতে। এদিন সকালে এ তথ্য দিয়েছেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, আমাদের এফএসআরইউ যেটা আছে, সেখানে একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেটা আমাদের দেশি এবং বিদেশি প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। এটা হয়তবা আজকে রাত্রে থেকেই কিছু উন্নতি হবে। প্রায় সাড়ে চারশ এমএমসিএফটি (মিলিয়ন ঘটফুট) গ্যাস আমরা কম পাচ্ছি। সেটা হয়ত আংশিকভাবে…।
এখানে দুটি বয়লার রয়েছে, যার মধ্যে একটি আজ রাত থেকেই চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাকি অংশ পরে চালু করা হবে। এতে গ্যাস সরবরাহ আংশিকভাবে বাড়বে এবং প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন। চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে এবং আনোয়ারা থেকে গ্যাস গ্রহণ করা হচ্ছে।
আমরা এখন দিতে পারছি প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি। নরমালি আমরা ২৬০-২৭০ এর মত থাকে। এখন ২০০ এর কাছাকাছি দিচ্ছি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত ২১ জুলাই কারিগরি সমস্যা শুরুর পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ কম ছিল। শনিবার রাত থেকে সরবরাহ আরো কমানো হয়েছে। এতে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। শিল্প কারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে মারাত্মকভাবে।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন কারখানায় যেমন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাসের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা অঞ্চলে সরবরাহ বাড়াতে জাতীয় গ্রিড থেকে সেখানে বেশি পরিমাণে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রামের জন্য গ্যাসের বরাদ্দ গত দুদিনে আরো কমেছে। এটাই বর্তমান সংকটের কারণ।
কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি)। তবে ২১ জুলাই এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পরদিন জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ নেমে আসে ২৩০ এমএমসিএফটিতে। পরবর্তী সময়ে সরবরাহ আরও কমতে থাকে—গত শনিবার তা ছিল ২১৭ এমএমসিএফটি, রোববার কমে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামে এবং সোমবার তা নেমে দাঁড়ায় ১৯৪ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ, তিন দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবারও নগরবাসী একইভাবে গ্যাস সংকটে ভুগেছে। তবে এদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলক ভালো থাকলেও পরে আবার চাপ কমে যায়।
