অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদক দেশ ভারত চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় এবং তা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারত সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক বাজারে সাদা ও কাঁচা চিনির দাম আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী উৎপাদক দেশ ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ পাবে।
ব্রাজিলের পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিনি রপ্তানিকারক দেশ ভারত আগে মিলগুলোর জন্য ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তখন ধারণা করা হয়েছিল, দেশটির উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি হবে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। প্রধান আখ উৎপাদনকারী অঞ্চলে ফলন কমে যাওয়ায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো উৎপাদন ভোগের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে এল নিনো পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের মৌসুমি বৃষ্টিপাতে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা আগামী মৌসুমে চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। অনুমোদিত ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন রপ্তানির বিপরীতে ব্যবসায়ীরা প্রায় ৮ লাখ টনের চুক্তি করেছিলেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ লাখ টনের বেশি চিনি রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার জানিয়েছে, কাঁচা ও পরিশোধিত—দুই ধরনের চিনিই রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হবে। তবে যেসব চালান ইতোমধ্যে রপ্তানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেগুলো নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে যদি কোনো চালানে পণ্য জাহাজে তোলার কাজ শুরু হয়ে থাকে, তাহলে সেই চালান রপ্তানির অনুমতি পাবে। এ ছাড়া যেসব ক্ষেত্রে শিপিং বিল জমা দেওয়া হয়েছে এবং জাহাজ ইতিমধ্যে ভারতের কোনো বন্দরে ভিড়েছে, পৌঁছেছে অথবা নোঙর করেছে, সেসব রপ্তানিও অনুমোদিত হবে। সরকার আরও জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে যদি চিনি কাস্টমস বা কোনো কাস্টোডিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই চালানও ছাড়পত্র পাবে।
মুম্বাইভিত্তিক একটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের এক ব্যবসায়ী জানান, ফেব্রুয়ারিতে সরকার অতিরিক্ত রপ্তানি কোটা ঘোষণা করায় ব্যবসায়ীরা চুক্তি করতে উৎসাহিত হয়েছিলেন। কিন্তু নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে কাঁচা চিনির ফিউচার মূল্য ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে লন্ডনের বাজারে সাদা চিনির দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
