কাস্টমস নিয়ে অনেক অভিযোগ, মানুষ এখন ট্যাক্স দিতেও ভয় পায়

সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘কাস্টমসরা (কর্মকর্তা) যেখানে যায় রাজত্ব বানিয়ে নেয়। কাস্টমসের ব্যত্যয় আছে। আইনের নামে হয়রানি, নিজেরটা হলে সব ঠিক এগুলো চলবে না। কাস্টমস নিয়ে অনেক অভিযোগ। অনেকেই বলেছেন কাস্টমসে দুর্বৃত্তায়ন চলে। নেপালে বাজেটের ১৫ শতাংশ আয় হয় কাস্টমস থেকে। আর আমাদের ৯ শতাংশ। মানুষ এখন ট্যাক্স দিতেও ভয় পায়। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দুর্বৃত্তায়ন চলবে না।’ সোমবার (১৭) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় খুলনার একটি হোটেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অংশীজন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ভাঙা থেকে মোংলা/খুলনা মহাসড়ক ৪ লেন অগ্রাধিকারে রয়েছে। পরে এটা বাস্তবায়ন হবে। অর্থ বরাদ্দ হলেও ড্রেজিং সঠিকভাবে হচ্ছে না। দুর্নীতি বন্ধ করে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, ‘লালদিয়া ৩০ আগস্ট উদ্বোধন করা হচ্ছে। মোংলাকে কেন্দ্র করে জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক হাব তৈরির কাজ চলছে। সম্ভাবনাময় এ অঞ্চল আর পিছিয়ে রাখতে চাই না। নেতৃত্ব প্রয়োজন। নিজে ভালো থাকার পাশাপাশি অন্যকেও ভালো রাখতে পারে এমন নেতা লাগবে। এতদিন হয়েছে উল্টোটা। যারা নিজেদেরকে ভালো রেখেছে, আর অন্যদের ওপর যাঁতাকল চালিয়েছে। এটার কারণেই এ অঞ্চল পিছিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে একটি জাতীয় অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মোংলা বন্দরের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সবার সহযোগিতা নিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে তা সমাধান করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘মোংলা বন্দরের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি দফতরগুলোতে সেবা বান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। জাতীয় অর্থনৈতিক হাব গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ তিনি সবাইকে মোংলা বন্দরের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অনুরোধ করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী বন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশন নিয়ে আরও সুনির্দিষ্ট করে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপন করার আহ্বান করেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘মোংলা বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতার ও জটিলতা নিরসনে সরকার ও মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, এলএনজি স্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেতু ও বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ বঙ্গের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, মোংলা বন্দরে নতুন জেটি, কোল্ড স্টোরেজ ও শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দর একটি শিল্প হাবে পরিণত হবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অংশীজন সম্মেলনে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম, পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, মোংলা কাস্টমস হাউজের কমিশনার ড. আবু নূর রাশেদ আহমেদ ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। সভায় বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প, জাহাজ, কার্গো, কন্টেইনার, গাড়ি আমদানির বাৎসরিক হিসাব ও বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম।