এক মাস পর রপ্তানি আয় কমল ৭.০৭%

এক মাসের ঊর্ধ্বগতির পর আবারও রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। সর্বশেষ মে মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৭ শতাংশ; এ মাসে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি করে আয় করেছে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ (৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই মাসে আয় ছিল ৪৭৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এর আগে টানা আট মাস পতনের পর গত এপ্রিলে রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছিল, তখন আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে আয় হয়েছিল ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু মে মাসেই নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস (জুলাই-মে) মিলিয়েও রপ্তানি আয় সামগ্রিকভাবে কমেছে।

আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূলত তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় কমে যাওয়ায় মে মাসে সামগ্রিক রপ্তানি আয় হ্রাস পেয়েছে। এ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ (৩.৫৯ বিলিয়ন) ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদের কারণে মে মাসে ৮ থেকে ১০ দিন কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, ফলে রপ্তানি কমেছে।

মে মাসে এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ঈদের সময় ৮ থেকে ১০ দিন পোশাকসহ অধিকাংশ রপ্তানিমুখী কারখানা বন্ধ ছিল এবং এ সময়ে পণ্য জাহাজীকরণও হয়নি, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রপ্তানিতে। তিনি আরও বলেন, দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি বাস্তবেই ভালো নয়; টানা আট মাস পতনের পর এপ্রিলে যে প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তা মূলত পোশাক খাতের ভরা মৌসুম ও ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কারণে হয়েছিল, ফলে ওই সময়ে রপ্তানিও বেড়েছিল।

অর্থবছরের শেষ মাস জুনেও রপ্তানি কমার আশঙ্কা প্রকাশ করে পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান পারভেজ বলেন, একটার পর একটা ধাক্কা লেগেই আছে। কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা-সহিংসতা-ক্ষমতার পট পরিবর্তন। এখন চলছে ইরান যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আমাদের অবস্থা কী হবে¬বুঝতে পারছি না।

পোশাক থেকে এসেছে ৮১.৬৩%

আগের মতোই মে মাসে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস ছিল তৈরি পোশাক খাত। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের (৪৪০ কোটি ডলার) ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ কম; আর ওভেন পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার, যা কমেছে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের হিসাবেও মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৬২ শতাংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। তবে এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

অন্যান্য খাতের আয়

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে কৃষি পণ্য রপ্তানি থেকে ৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে আয় কমেছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ খাত থেকে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে এসেছে। গত বছরের মে মাসে এই অঙ্ক ছিল ১২ কোটি ৫২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। তবে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে মে মাসে আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি থেকে বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ।