প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্প উঠছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। এর মধ্যে ৯টি নতুন এবং ৭টি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে রংপুর বিভাগের সড়ক উন্নয়ন, টিবি-এইচআইভি-ম্যালেরিয়া মোকাবিলা, তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দর উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এটি একনেকের চতুর্থ সভা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১৭ হাজার ৮৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৮৪২ কোটি ৩১ লাখ, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ৫ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯৯ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৪৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার বলেন, ১৭ হাজার ৮৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৬টি প্রকল্প একনেক সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় হলো রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যার পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। স্বাস্থ্য খাতে নতুন দুটি প্রকল্পও একনেক সভায় উঠছে। এর মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি-এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্য প্রকল্প ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডিসি কন্ট্রোল’। এতে ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ২ হাজার ৯১০ কোটি ২২ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের এ প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৪৪৪ কোটি ৩১ লাখ, প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৯৮ কোটি ৪০ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফেনীর সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে আরও ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫১ লাখ থেকে বেড়ে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা হবে। তবে সংশোধনীতে সরকারি অর্থায়ন ১৩৪ কোটি ২২ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। বিপরীতে অন্যান্য অর্থায়ন ৯৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল মেয়াদ ছিল জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে জুন ২০২৭ পর্যন্ত করা হয়েছে।
যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী বিমানবন্দরের রানওয়েতে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলে করার প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ৩৪১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৯০৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর বিমানবন্দরে ২৭২ কোটি ৮০ লাখ এবং রাজশাহীতে ৬৯ কোটি ৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। ‘গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’-এর দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ১ হাজার ২৭০ কোটি ৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৬৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫১৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
