অবৈধ সুবিধা নিয়ে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের দুই ছেলের কালো টাকা সাদা করে দেওয়ায় তিন কর কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তার মধ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হওয়ায় একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। অবসর দেওয়া কর্মকর্তা হলেন সহকারী কর কমিশনার মো. আমিনুল ইসলাম। বুধবার (৮ অক্টোবর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মো. আমিনুল ইসলামের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে একই বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও অপর দুই কর্মকর্তা হলেন-অতিরিক্ত কর কমিশনার সাইফুল আলম ও যুগ্ম কর কমিশনার এ কে এম শামসুজ্জামান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এনবিআরে সংযুক্ত সহকারী কর কমিশনার মো. আমিনুল ইসলামের (৭০০৩১৮) চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সরকার জনস্বার্থে তাঁকে সরকারি চাকরি হতে অবসর দেওয়া প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে। সেজন্য সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো। তিনি বিধি অনুযায়ী অবসরকালীন সুবিধাদি পাবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।

এনবিআর সূত্রমতে, কর ফাঁকি ও কালোটাকা সাদা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় এনবিআর কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর দেওয়ার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার অনুমতি দেয়। ওই সময়ে ব্যবসায়ী এস আলমের দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহির ৫০০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন। কর ফাঁকি দিতে ব্যাংকের দুটি জাল পে-অর্ডারের মাধ্যমে অনিয়মের আশ্রয় নেন তাঁরা।
সূত্র আরো জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ২৫ শতাংশ করহার বিবেচনায় ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে ১২৫ কোটি টাকা কর দিতে হতো। অথচ তাঁরা দিয়েছেন মাত্র ৫০ কোটি টাকা। এই বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রে এনবিআরের তিন কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। তাঁরা হলেন—অতিরিক্ত কর কমিশনার সাইফুল আলম, যুগ্ম কর কমিশনার এ কে এম শামসুজ্জামান ও সহকারী কর কমিশনার মো. আমিনুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর এ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এক বছর পর মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মো. আমিনুল ইসলামের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। একদিন পরই তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

সূত্রমতে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার সময় অতিরিক্ত কর কমিশনার সাইফুল আলম চট্টগ্রাম কর আপীল অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম এর যুগ্ম কর কমিশনার ছিলেন। কর অঞ্চল-১৪, ঢাকার যুগ্ম কর কমিশনার এ কে এম শামসুজ্জামান। এর আগে তিনি কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রামের যুগ্ম কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর অঞ্চল-২, চট্টগ্রাম এর সহকারী কর কমিশনার মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে তিনি কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম এর অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার (ইএসিটি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, ৭৫ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় এস আলমের দুই ছেলে, ইসলামী ব্যাংকের সাত কর্মকর্তা ও এনবিআর কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামকে আসামি করা হয়। অর্থাৎ কর ফাঁকি ও কালোটাকা সাদা করায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমিনুল ইসলামের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
** টাকা বৈধ করতে ‘কুমির-বাঘের’ ভয় দেখান কমিশনার!
বরখাস্ত তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি
** এস আলমকে সুবিধা: তিন কর কর্মকর্তা বরখাস্ত
** দুই ছেলে, কর কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের আবেদন
** কালো টাকা সাদা করতেও ‘ভুয়া’ পে-অর্ডার!
** এস আলম: আমদানি না করেই পাচার ১৬ কোটি টাকা
** এস আলমের সেই দুই প্রতিষ্ঠানের বিন লক, হিসাব জব্দ
**
