৭২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাবেন সেরা করদাতার সম্মাননা

ট্যাক্স কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে সেরা করদাতা সম্মাননা নীতিমালা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৭২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে সেরা সম্মাননা। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হলে বা কর ফাঁকির মামলা চলমান থাকলে, খেলাপি ঋণ বা সংশ্লিষ্ট বছরে ঋণ পুনঃতফসিল করা হলে তা ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের অযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হবে। সোমবার নতুন এই নীতিমালা জারি করে এনবিআর ।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যক্তি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন এবং কোম্পানি ক্যাটাগরিতে ৩৯টি সেরা করদাতা সম্মাননা দেওয়া হবে। ব্যক্তিশ্রেণিতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী ১৫ জনের পাশাপাশি দুইজন সিনিয়র সিটিজেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন প্রতিবন্ধী ও পাঁচজন নারী করদাতা এ সম্মাননা পাবেন। এছাড়া বেতনভোগী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট/কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, খেলোয়াড় ও শিল্পী—এই নয়টি পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে একজন করে মোট ৯ জনকে সম্মাননা দেওয়া হবে। কোম্পানি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ কর প্রদানকারী ১৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জীবন ও সাধারণ বিমা, চিকিৎসাসেবা, তৈরি পোশাক, প্রকৌশল, ইস্পাত, কৃষি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি, পাট, স্পিনিং ও টেক্সটাইল, ওষুধ ও রসায়ন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট, চামড়া, শিক্ষা, পর্যটন, চা, ট্রাস্ট ও সিরামিক খাতের একটি করে প্রতিষ্ঠান সেরা করদাতা সম্মাননা পাবে।

সেরা করদাতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে-প্রাথমিক বাছাই, যাচাই এবং চূড়ান্ত নির্বাচন। প্রাথমিক বাছাই কমিটি কর অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সেরা করদাতাদের তালিকা তৈরি করবে। এরপর যাচাই কমিটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে করদাতাদের যোগ্যতা যাচাই করবে। সবশেষে চূড়ান্ত নির্বাচন কমিটি সেরা করদাতার তালিকা অনুমোদন করবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করদাতাদের নাম গেজেটে প্রকাশ করা হবে। তাদের করদাতা সম্মাননা কার্ড ও ক্রেস্ট দেওয়া হবে। গেজেটে নাম প্রকাশের পর দুই বছর পর্যন্ত সম্মাননা কার্ডের মেয়াদ ও নির্ধারিত সুবিধা বহাল থাকবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, করদাতার কাছে অবিতর্কিত বকেয়া থাকলে তা অযোগ্যতা হিসাবে বিবেচিত হবে। এছাড়া দেরিতে রিটার্ন জমা দিলে, কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অথবা পুনঃউন্মোচিত মামলা অনিষ্পন্ন থাকলে, করদাতার বিরুদ্ধে আয়কর আইনে ফৌজদারি অপরাধ ও বিচার হলে, অর্থঋণ আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, বিএফআইইউতে অর্থপাচারের তদন্ত চলমান থাকলে, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন বা আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চলমান থাকলে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বা দুদকে মামলা দায়ের ও দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তা অযোগ্যতা হিসাবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি করদাতা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হলে, সংশ্লিষ্ট বছরে ঋণ পুনঃতফসিল করা হলে এবং কাস্টমস, ভ্যাট ও দানকর আইনে অবিতর্কিত পাওনা থাকলে তা অযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

সেরা করদাতারা যেসব সুবিধা পাবেন, সেগুলো হচ্ছে-সড়ক, বিমান বা জলপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং লঞ্চ টার্মিনালের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। সার্কিট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ এবং তারকা হোটেলসহ যে কোনো আবাসিক হোটেলে বুকিং পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। করদাতা নিজে এবং তার স্ত্রী/স্বামী ও সন্তান সরকারি হাসপাতালের কেবিন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় দিবস এবং সরকারি অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণ পাবেন। বিআরটিএ এবং পাসপোর্ট অফিস থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্রুত ও অগ্রাধিকারমূলক সুযোগ পাবেন।