বিএসইসির নজরে সায়হাম টেক্সটাইল

দেশের শেয়ারবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারটির লেনদেনে সম্ভাব্য কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিংসহ কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। সম্প্রতি কমিশনের সার্ভিল্যান্স বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করেছে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তাই সন্দেহজনক এ ঘটনার‌ প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৮ জুন সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের শেয়ারের দাম ছিল ১৭ দশমিক ৮০ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২ সেপ্টেম্বর তা ৩৮ দশমিক ২০ টাকায় দাঁড়ায়। যদিও পরে শেয়ারটির দাম কিছুটা কমে আসে, তবুও প্রায় তিন মাসে এর দাম বেড়েছে ২০ দশমিক ৪০ টাকা বা ১১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে। এ কারণে বিষয়টি তদন্ত করে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের আওতায় বেশ কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো ধরনের সমন্বিত কারসাজি বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে ডিএসই।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালার সম্ভাব্য লঙ্ঘন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেছেন, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন বুঝতে হবে এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো চক্র কাজ করছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তাই শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ধরে রাখতে বিএসইসি নির্দেশিত এই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।