২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও এর সুফল এখনো ভোক্তাদের কাছে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির দাবি, সরকার কর ছাড় দিলেও বাজারে চাল, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমেনি; উল্টো কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রোববার (৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ তুলে ধরেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।
তিনি বলেন, এবারের বাজেটে ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের ভোজ্যতেলের উৎসে করও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল কর কমানোর ফলে আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় কমবে এবং তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে। কিন্তু বাস্তবে সেই সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন না।
নাজের হোসাইন বলেন, বাজেট ঘোষণার পর ক্যাব প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্য আগের বেশি দামে আমদানি করা হয়েছে। নতুন চালান এলে তখন দাম কমতে পারে। অথচ যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দাম কম দামে আমদানি হলেও ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের দ্বৈত নীতি স্পষ্ট হয়েছে।
ক্যাবের মতে, বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা কমছে না। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা না নিয়ে আগের মতোই ব্যবসায়ীবান্ধব অবস্থানে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে নমনীয় আচরণ করছে, যার ফলে ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে বাজেটে আমদানিকৃত সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলেও এর প্রভাব এখনো বাজারে দেখা যায়নি। বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। খেজুরের ক্ষেত্রেও কর ছাড়ের ইতিবাচক প্রতিফলন এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
সরকার কর ছাড় দিয়ে রাজস্ব আয় কমালেও সেই সুবিধা যদি সাধারণ ভোক্তাদের কাছে না পৌঁছায়, তবে এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে—এমনটাই মনে করছে ক্যাব। বাজেট ঘোষণার পর সরকারের পক্ষ থেকে কর কমানো পণ্যের দাম কমার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত চালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষিত ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
