অডিটের নামে ফোনে টাকা দাবি, কী করবেন?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর নথি ধাপে ধাপে অডিট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রতারক চক্র। তারা ফোন করে জানাচ্ছে, আপনার আয়কর রিটার্ন এনবিআরের অডিটে পড়েছে এবং এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতির মুখে পড়লে করদাতাদের কী করা উচিত?

এনবিআর বলছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা এভাবে ফোন করে যোগাযোগ করেন না। কারো আয়কর নথি অডিটের আওতায় পড়লে লিখিত নোটিস দিয়ে করদাতাকে জানানো হয়। এমন কোনো ফোন এলে তাদের ‘ফাঁদে’ পা না দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে কর আদায়কারী সংস্থাটি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে করদাতার করণীয় তুলে ধরেছে এনবিআর; একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।

ফোন নয়, লিখিত নোটিস

এনবিআর জানিয়েছে, লিখিত নোটিস ছাড়া তারা করদাতাদের সঙ্গে অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করে না। কর নথি অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগত ফোন নম্বর কিংবা অননুমোদিত মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না। কোনো ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিস দিয়েই তা করদাতাকে জানানো হয়। তাই এ ধরনের ফোনকল পেলে আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কর সংক্রান্ত সব বকেয়া বা ফি কেবল সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে, কিংবা বিকাশ, রকেট, নগদসহ অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না।

তথ্য যাচাই করুন

কোনো সন্দেহজনক ফোনকল, এসএমএস বা ইমেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ কর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে এনবিআর। এছাড়া কেউ যদি এনবিআরের কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (পুলিশ) বিষয়টি জানাতে এবং সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বরটি সংরক্ষণ রাখতে বলা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, করদাতাদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই কোনো অবস্থাতেই প্রতারকদের প্রলোভন বা ভয়ভীতিতে পড়ে আর্থিক লেনদেনে না জড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংস্থাটি তৃতীয় দফায় ২০২৩-২৪ করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির অতিরিক্ত ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম ধাপে ১৫ হাজার ৪৯৪টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭২ হাজার ৩৪১টিসহ মোট প্রায় ৮৮ হাজার রিটার্ন অডিটের আওতায় আনা হয়েছিল। নির্বাচিত করদাতাদের তালিকা এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।