বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং সোনা-রুপার আমদানি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। বুধবার জারি করা এক সরকারি আদেশে এই মূল্যবান ধাতুগুলোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। মূলত বিদেশ থেকে সোনা ও রুপা কেনা কমিয়ে রিজার্ভের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বে মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা দেশ হওয়ায়, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দেশটির স্থানীয় বাজারে সোনা ও রুপার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ফলে আবারও সোনা চোরাচালান বেড়ে যেতে পারে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত শুল্ক কমানোর পর চোরাচালান কিছুটা কমে এসেছিল। ভারত সরকার সোনা ও রুপা আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস (এআইডিসি) আরোপ করেছে। এর ফলে কার্যকর আমদানি কর ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিজেএ) জাতীয় সম্পাদক সুরেন্দ্র মেহতা বলেন, ‘প্রত্যাশিতভাবেই সরকার চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে শুল্ক বাড়িয়েছে। তবে এর প্রভাব চাহিদার ওপর পড়তে পারে, কারণ স্বর্ণ ও রুপার দাম আগেই অনেক বেড়ে গেছে।’ রোববার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় দেশটির নাগরিকদের এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ভারত তার অভ্যন্তরীণ সোনার চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে।
শেয়ারবাজারে প্রত্যাশিত মুনাফা না পাওয়া এবং বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকায় ভারতে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদা গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (মার্চ পর্যন্ত) দেশের গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ)-এ বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। সোনার এই লাগামহীন আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকার কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি সোনা ও রুপা আমদানির ওপর ৩ শতাংশ সমন্বিত পণ্য ও পরিষেবা কর (আইজিএসটি) আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো এক মাসেরও বেশি সময় আমদানি কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল।
সরকারি কড়াকড়ির প্রভাবে গত এপ্রিল মাসে ভারতে সোনা আমদানি কমে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো ৩ শতাংশ কর দিয়ে পুনরায় আমদানি শুরু করলেও নতুন করে শুল্ক ১৫ শতাংশ করায় আমদানির পরিমাণ আবারও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন বুলিয়ন ব্যবসায়ীরা। মুম্বাইভিত্তিক একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় এখন অবৈধ পথে বা চোরাচালানের মাধ্যমে সোনা আনার প্রবণতা বাড়তে পারে। বর্তমান চড়া মূল্যে চোরাকারবারিরা সোনা পাচার করে বিপুল মুনাফা করার সুযোগ পাবে, যা অবৈধ বাজারকে আবারও চাঙ্গা করে তুলবে।’
