আয়ের নির্দিষ্ট কোনো উৎস না থাকলেও আলোচিত শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থ পাচারের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় রোববার (১২ জুলাই) রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। এ মামলায় সোমবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানায়, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী গোপীনাথ তরনী দাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদিত ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকলও দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরি, বদলি বাণিজ্য, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় সিআইডি তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, বৈধ কোনও আয়ের উৎস না থাকা স্বত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন; যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে; যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বনানী থানায় রুজু করা মামলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানকালে পাওয়া গেছে।
শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
