রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১২%, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে

চট্টগ্রাম কাস্টম

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি; তবে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার ৮২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, এমন তথ্য বুধবার রাতে প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭২ হাজার ৫০২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মূলত পাম অয়েল, ডিজেল, ক্রুড অয়েল, তাজা ও শুকনা ফল, ক্যাপিটাল মেশিনারি এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানির মাধ্যমে এবার বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়লেই রাজস্বও বাড়ে। বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ১ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেশি। তবে এখনো সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কাছ থেকে বকেয়া আদায় হয়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা। এর পরও বছর শেষে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম কাস্টমের বকেয়ার পরিমাণ ২৫ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা পরিমাণ ২১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে কোনো বকেয়াই আদায় হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে পাওনা ৩ হাজার ৯২২ কোটি টাকা।

কাস্টম কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।