ভোজ্যতেলের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি

ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে তা বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি খরচ ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থাই দাম নির্ধারণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এজন্য বর্তমান সরকার নির্ধারিত মূল্য কাঠামো বাতিলের সুপারিশও করেছে তারা।

গত ২৮ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২১ জুন অনুষ্ঠিত এক সভায় ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ বর্তমান পদ্ধতি থেকে সরিয়ে বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তারা কয়েকটি প্রস্তাবও তুলে ধরে। সংগঠনটির মতে, দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এলসি, ইন-বন্ড ও এক্স-বন্ড মূল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ—বিশেষ করে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড (সিবিওটি)—এর বাজার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। পরে এসব তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন নিতে পারে।

সংগঠনটি আরও প্রস্তাব করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সার্বিক বাজার পরিস্থিতি তদারক করবে। কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ওই সেলে সরবরাহ করবে এবং কোনো সরকারি সংস্থার তথ্য প্রয়োজন হলে তা এই সেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং একই তথ্য বারবার চাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে দাবি সংগঠনটির। চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন মনে করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করতে পারে, যেখানে কোম্পানিগুলোর মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। চাইলে অ্যাসোসিয়েশন নিজস্ব অর্থায়নে এমন ড্যাশবোর্ড তৈরির উদ্যোগও নিতে পারে।

কেন বাজারব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণ চায়

অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ চালু হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং তা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কোনো প্রতিষ্ঠান অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে অন্যরা কম দামে পণ্য সরবরাহ করে বাজারে ভারসাম্য তৈরি করবে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিপরীতে প্রশাসনিক বা কৃত্রিমভাবে দাম নির্ধারণ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়ার সময় দেশীয় বাজারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আমদানিকারক ও উৎপাদকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন, নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও বাজারব্যবস্থা উন্নয়নের স্বার্থে সরাসরি মূল্য নির্ধারণ না করে নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।