মিথ্যা ঘোষণার যন্ত্রাংশ থেকে তৈরি বিএমডব্লিউ আটক

পার্টসের আড়ালে বিএমডব্লিউ আমদানি

** পুরনো রেজিস্ট্রেশনে চট্টগ্রামের রাস্তায় চলছে বিএমডব্লিউ গাড়ি
** গাড়িটি আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তি জড়িত

পার্টস বা যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। আর সেই যন্ত্রাংশ কোন সাধারণ গাড়ি নয়, বিলাসবহুল যন্ত্রাংশ। শুধু একটি যন্ত্রাংশ নয়, পুরো বিএমডব্লিউ গাড়ির যন্ত্রাংশ মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে। সেই যন্ত্রাংশ গ্যারেজে জোড়া লাগিয়ে (অ্যাসেম্বল) করে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি করা হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা এমন একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাস্টমস গোয়েন্দা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িটি আটক করেছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, গাড়িটি সম্পূর্ণ অবস্থায় আমদানি না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দুবাই থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পর গাড়িটির বিভিন্ন অংশ কাপ্তাই বা চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নিয়ে জোড়া লাগানোর কাজ করা হয়। পরে নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি অটোমোবাইল গ্যারেজে নিয়ে গাড়িটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি ২০১৪ মডেলের বিএমডব্লিউ। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করার পর গাড়িটি একটি পুরোনো বিএমডব্লিউ-এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। গাড়িটির ব্যবহৃত নম্বর হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তীতে গাড়িটি চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার একটি ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়।

গাড়িটির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই থেকে গাড়ির অংশবিশেষ পাঠানো, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস এবং স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানোর পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারীর কাছে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দর থেকে খালাসের পর গাড়ির অংশগুলো প্রথমে কাপ্তাই/চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে গাড়িটি জোড়া লাগানোর পর নগরীর মুরাদপুর এলাকায় ‘অটোশপ ফাস্ট রিপেয়ার’ নামে একটি গ্যারেজে নিয়ে পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, গ্যারেজের রেকর্ড এবং আমদানি-সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অপরদিকে, গাড়িটির প্রকৃত আমদানি পদ্ধতি ও শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসছে। বিশেষ করে গাড়ির বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, শিপিং ডকুমেন্টস, চেসিস, আমদানি মূল্য, ঘোষিত পণ্যের বিবরণ এবং পরিশোধিত শুল্ক-কর যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষিত পণ্যগুলো দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে সংযোজন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয়ভাবে সংযোজনের পর গাড়িটি অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউ-এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে রাস্তায় চলাচল করছিল। বিষয়টি সত্য হলে গাড়িটির প্রকৃত পরিচয়, চেসিস নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে একটি পূর্ণাঙ্গ বিলাসবহুল গাড়ি দেশে এনে স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করা এবং পুরোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করার অভিযোগের ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দার এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

** পার্টস ঘোষণায় ৪ বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি