** নতুন করদাতা রিটার্ন দিলে করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম কর হবে ১ হাজার টাকা
** সহজ হচ্ছে ভ্যাটের অডিট, ইআরপি সফটওয়্যারে হিসাব রাখলে এই সুবিধা মিলবে
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুখবর আসতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে মাসিক ভ্যাট রিটার্ন (দাখিলপত্র) দাখিলে ছাড় দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত সব প্রতিষ্ঠানকে প্রতিমাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তবে ছোট ও মাঝারি এসব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট প্রদানে আরো উৎসাহ দিতে প্রতিমাসে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করলে হবে। এছাড়া ভ্যাটের অডিট বা নিরীক্ষা আরো সহজ করা হতে পারে। ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ পদ্ধতি সহজ করা হতে পারে, যাতে যেকোন প্রতিষ্ঠান নিজে নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে গেলে ভ্যাট কমিশনারেট, বিভাগীয় কার্যালয়, সার্কেলের অনুমোদন, মাঠে প্রতিষ্ঠান যাচাইসহ নানান ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। শুধু ভ্যাট নিবন্ধন নয়, সুর্নিদিষ্ট ভ্যাট প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেই অনলাইনে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করতে পারবে।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১৪টি রিটেইল বা ক্ষুদ্র খাতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সার্ভিস খাতে ৩ লাখ ১৬ হাজার ১৫৩টি, আমদানি ও রপ্তানি খাতের ৯৭ হাজার ৩৯১টি, উৎপাদন খাতে ৪৭ হাজার ৯৯৩টি ও অন্যান্য খাতে ১৪ হাজার ২৪৭টি ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভ্যাট প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করতে বাজেটে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ছোট ও মাঝারি বা রিটেইল খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই খাতের ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা অনেক ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রয়োজনীয় চাপ অনুভব করে। আমরা চাই ব্যবসায়ীরা সহজে ভ্যাট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকুক। এজন্য তিন মাস অন্তর অন্তর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও সুদের বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মে বছরে চারবার ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য হিসাব সংরক্ষণ, রিটার্ন প্রস্তুত এবং সময়মতো জমা দেওয়া একটি বড় প্রশাসনিক বোঝা জটিলতা হিসাবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে। এটাকে অনেকটা হয়রানি ও বাড়তি খরচ হিসাবে বিবেচনা করে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ভ্যাট ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সকল ব্যবসায়ী ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বেশি লেনদেন না থাকলে রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনমাস অন্তর অন্তর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দিলে ভ্যাট প্রদানে আগ্রহী হবে। ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হলে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অন্তত ২০ লাখ পার হয়ে যাবে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, আগামী বাজেটে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হতে পারে। ফলে ব্যবসায়ীকে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। এমনকি অডিটের আওতায় আসলেও প্রতিষ্ঠানকে নথিপত্র দাখিল করতে হবে না। এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে ভ্যাটের অডিটও সহজ করা হচ্ছে। ভ্যাটের ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাবতীয় হিসাব রাখলেই মিলবে ওই সুবিধা। আর সেই আগের মতো ম্যানুয়াল অডিট হবে না।
অপরদিকে, আগামী বাজেটে নতুন যেকোন করদাতা রিটার্ন দাখিল করলে করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম করলে ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে। নতুন করদাতাদের কর প্রদানে উৎসাহ দিতে এই প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের যেকোনো জায়গার করদাতার বসবাস হোক, নতুন রিটার্ন দাখিল করলেই ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে। তার করমুক্ত সীমা পার হলেই তাকে এ পরিমাণ কর দিতে হবে। হিসাব করে যদি করদাতার কর ৫০০ টাকাও আসে তবুও ১ হাজার টাকা দিতে হবে। তবে যাদের করের পরিমাণ ১ হাজার টাকার বেশি হবে, তাদেরকে বেশি দিতে হবে।
