নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও চালসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি সহজ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুল্ক ও করহার সমন্বয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পণ্য আমদানির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২২তম দিনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ জন্য পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পর্যালোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথা জানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১. আমদানি সহজীকরণ ও শুল্ক হ্রাস: গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুল্ক ও করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার কাজ চলছে। এছাড়া একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প দেশ থেকে পণ্য আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। ২. বাজার তদারকি ও অভিযান: বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুতদারি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অসাধু ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ৩. টিসিবির কার্যক্রম: নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। ৪. সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখা: বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, পণ্যের বাজার পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যখনই প্রয়োজন হচ্ছে, দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
