উসমানিয়া গ্লাস-মেঘনা পেটের লেনদেন স্থগিত

শেয়ারদাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ‘উসমানিয়া গ্লাস হাউস’ ও ‘মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডিএসই তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ও উচ্চ লেনদেনের কারণে দিনের বাকি সময়ের জন্য এসব শেয়ারের লেনদেন বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র ওই দিনের জন্যই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

ডিএসই যখন দুটি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে, তখন ঢাকার পল্টনে পুঁজিবাজারভিত্তিক সংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মাসুদ খান। শেয়ার দর অস্বাভাবিক হলে বা কোনো শেয়ার লেনদেন হঠাৎ বেড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কীভাবে কাজ করত সেই প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, এতদিন তারা করে আসছেন যে, বিএসইসি প্রথমে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়। তারপর তারা ব্যবস্থা নেয়। সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুই মাস সময় লাগে।

মাসুদ খান বলেন, ‘এই সময়ে রোগী মারা যায়; দেরি হচ্ছে। দেরি হওয়াটা ন্যায়বিচার নয়। এখান থেকে আমরা বের হতে চাই। অস্বাভাবিক লেনদেন হলে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে হবে; সেই নির্দেশনা দিয়েছি। লেনদেন স্থগিত হওয়া উসমানিয়া গ্লাস হাউসের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের অগাস্টে; তাদের দ্বিতীয় চুল্লি বন্ধ হয়ে গেলে। কিন্তু বন্ধ থাকার পরেও দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কাঁচ প্রস্তুতকারি কোম্পানিটির শেয়ার দড় বৃহস্পতিবার বাড়তে শুরু করে।

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ১৯৫৯ সালে সাদা গ্লাস শিট উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৯৭২ সালে বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এটি দেশের একমাত্র গ্লাস শিট উৎপাদনকারী কারখানা ছিল, এরপর তারা কাঁচ উৎপাদনও শুরু করে। সর্বশেষ এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০ টাকা ২০ পয়সায়, যা আগের দিনের ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়েছে। অন্যদিকে, ২০০৪ সাল থেকে বন্ধ থাকা মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ৮৯ টাকা ৬০ পয়সায়।