দেশের আটটি শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে সাড়ে ৩৬ শতাংশ এখনো শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত এই চিত্র পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৫ শতাংশ কারখানায় গত এপ্রিল মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে। এর আগে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সব কারখানায় ২১ মের মধ্যে ঈদ বোনাস এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৪ মে ঢাকার সিরড্যাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) ও আরএমজি–বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
অন্যান্য ঈদের মতো এবারও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রমিকের বেতন-বোনাস না পাওয়াকে মালিকদের একটি অংশের গাফিলতি বলে মনে করেন শ্রমিকনেতারা। তাঁরা বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বেতন–বোনাস না দিলে সরকারের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। সে জন্যই মূলত পরিস্থিতির উন্নতি হয় না। অন্যদিকে শিল্পমালিকেরা বলছেন, চার সপ্তাহের মধ্যে এপ্রিলের বেতন, ঈদ বোনাস ও চলতি মে মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন দিতে গিয়ে অনেক শিল্পকারখানা আর্থিক সংকটে পড়েছে। সোমবার ও কাল মঙ্গলবার বেতন-বোনাস পরিশোধ হবে অনেক কারখানায়।
বেতন-বোনাস পরিশোধের চিত্র
শিল্প পুলিশের পর্যবেক্ষণে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানার মধ্যে গতকাল বিকেল চারটা পর্যন্ত ৫৩৫ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে মোট ৬ হাজার ৪৯৩টি বা ৬৩ শতাংশ কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে, ফলে এখনো ৩ হাজার ৭৪৫টি বা ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ কারখানার বোনাস বাকি। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আওতায় থাকা বিজিএমইএর ১ হাজার ৭৯০ সদস্য কারখানার মধ্যে ৩৫ শতাংশ এখনো বোনাস দেয়নি। তবে বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত শনিবার পর্যন্ত তাদের সচল ২ হাজার ১৩৪ কারখানার ৯২ শতাংশ বোনাস পরিশোধ করেছে এবং ৫৩২টি কারখানা চলতি মাসের আংশিক অগ্রিম বেতন দিয়েছে।
জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘দুটি কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা ছিল। তার মধ্যে একটি সমাধান করেছি। আরেকটির সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, বেতন বোনাস বাকি থাকা কারখানাগুলো কাল ও পরশু (আজ ও কাল) পরিশোধ করে ছুটি দিয়ে দেবে। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা বিকেএমইএর সদস্য ৭০৮টি কারখানার মধ্যে ৩৯ শতাংশের বোনাস বাকি রয়েছে।
এ নিয়ে নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘আমাদের সচল সদস্য ৭৮৮ কারখানার মধ্যে ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ কারখানা গত মাসের বেতন দিয়েছে। ৮০ শতাংশ কারখানা চলতি মাসের ১০ বা ১৫ দিনের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করেছে। আর বেশ কিছু কারখানা সোম, মঙ্গল ও বুধবার ছুটির সময় বোনাস দেবে।’জানতে চাইলে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, পোশাকশিল্পের মালিকেরা রপ্তানি প্রণোদনার অর্থ পেয়েছেন। তারপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের বেতন ও বোনাসের টাকা পরিশোধ না করাটা লজ্জাজনক।
