গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে চাহিদা কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ পণ্যের আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মতে, দেশীয় গার্মেন্টস ও সুতা উৎপাদনকারী টেক্সটাইল মিলগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ায় আমদানি হ্রাস পেয়েছে।
ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখার তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ১১৩ টন। এর আমদানি মূল্য ছিলো ৬৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ টন তুলা আমদানি হয়েছে। যার আমদানি মূল্য ৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ছিল। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে এ বন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে ৬৯৭ টন।
বন্দরের তুলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কুমার জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে তার প্রতিষ্ঠানে তুলা আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী টেক্সটাইল মিল ও গার্মেন্টস খাতে চাহিদা না থাকায় এ আমদানি হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারতে তুলার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে সেখানে তুলার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। আগে ভারতে কাঁচা তুলা প্রতি পাউন্ড ১১৪ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৯৫ টাকায় নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১৯–২০ টাকা দাম কমেছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, আমাদের দেশে মোট চাহিদার সিংহভাগ তুলা দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। তবে সম্প্রতি দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোতে চাহিদা কমায় ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে পণ্যটির।
