৪২% পরিবার এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার এখনও তুলনামূলকভাবে কম। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবহার কিছুটা বাড়লেও পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে পরিবার পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ এখনও প্রায় ৪২ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত জরিপের প্রতিবেদনটি গতকাল রোববার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সারাদেশে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ওপর এই জরিপটি চালানো হয়েছে। দুই হাজার ৫৬৮টি নমুনা এলাকায় দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২৪টি করে সর্বমোট ৬১ হাজার ৬৩২টি খানায় ত্রিমাসিক ভিত্তিতে এ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে আইসিটির ব্যবহার ও প্রয়োগ চিত্র তুলে ধরতে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। সরকার, নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ), এসডিজি ট্র্যাকার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য জরিপ থেকে তথ্যউপাত্ত পাওয়া যাবে।

জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। ফলে প্রায় ৪২ শতাংশ পরিবার এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পরিবারের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এদিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের হার প্রায় ৯৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহারও বেড়েছে। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার স্মার্টফোন ব্যবহার করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে মোবাইল ফোন থাকা পরিবারের হারও সামান্য বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন ছিল, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তবে ফিক্সড টেলিফোনের ব্যবহার কমতে কমতে এখন শুন্য দশমিক ৭ শতাংশে পরিবারের হাতে অবশিষ্ট রয়েছে। রেডিওর ব্যবহারও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ১৬ শতাংশ পরিবারে রেডিও ছিল। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার কমে হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অবশ্য টেলিভিশনের ব্যবহার এখনও বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে দেখা যায়, ৬০ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন আছে।

বিবিএসের এই জরিপ বলছে, পরিবারের বাইরে ব্যক্তি পর্যায়ে আইসিটির ব্যবহার বেড়েছে। ব্যক্তি পর্যায়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ইন্টারনেট ব্যবহার করত ৫৫ শতাংশ মানুষ। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে তা বেড়ে হয় ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ। মোবাইল ফোনের ব্যক্তি মালিকানা ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

মাস দুয়েক আগে প্রকাশিত বিবিএসের এক জরিপে বলা হয়, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বেশি খরচের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আগ্রহী নন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি প্রকট। জরিপে ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোঁজার কাজে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৬৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে খেলাধুলা-বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান, যেখানে ব্যবহারের হার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনার প্রবণতা এখনও কম; এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।