** সিগারেটের দাম নির্ধারণে স্বাধীনতা না দিলে চলতি অর্থবছর রাজস্ব ৭ শতাংশ কমতে পারে বলে এনবিআরকে ভয় দেখিয়েছে বিএটি
** ২০২১-২০২৪ পর্যন্ত জুলাই মাসে গড় বিক্রি ছিলো প্রায় ২১৮ বিলিয়ন শলাকা, যা ২০২৬ সাথে সামসঞ্জ্য ছিলো
** ২০২৫ সালে জুলাই মাসে ৪০৩ বিলিয়ন শলাকা বিক্রি করলেও ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ৪৫ শতাংশ বিক্রি কমেছে, মূলত ফ্যাক্টরি স্থানান্তরের জন্য কমেছে, অথচ ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে বিএটি
** বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাব রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে
সিগারেটের দাম নির্ধারণে স্বাধীনতা চেয়েছে বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি)। যার মাধ্যমে কোম্পানি সিগারেটের দাম কমাতে চায়। বিশেষ করে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম কমাতে উঠেপড়ে লেগেছে কোম্পানি। বিএটি বলছে, দাম বাড়ানোর ফলে বাজারে অবৈধ সিগারেট বেড়ে গেছে। সেজন্য তাদের বিক্রি কমেছে। সিগারেটের দাম কমানো হলে বিক্রি ও রাজস্ব-দুটো বাড়বে। সিগারেটের দাম নির্ধারণের স্বাধীনতা চেয়ে বিএটি এনবিআরকে একাধিক চিঠি দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে, দাম নির্ধারণের স্বাধীনতার মাধ্যমে বিএটি সিগারেটের দাম বা বাজার নিয়ে খেলতে চায়। বিএটি তাদের সিগারেটের বিক্রির বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া বিক্রি ও রাজস্ব কমে যাওয়ার যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, তা ঠিক নয়। আর এনবিআর বলছে, আইন অনুযায়ী দাম একবার বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর কমানোর সুযোগ নেই। আর বাজেট ঘোষণার পর দাম কমানোর সুযোগ আরো সীমিত হয়ে গেছে।
বিএটির জুলাই মাসের বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিএটি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে সিগারেট বিক্রি করেছে প্রায় ২১৮ বিলিয়ন শলাকা, যা ২০২৫ সালে বিক্রি ছিলো ৪০৩ বিলিয়ন শলাকা। সংখ্যার হিসাবে বা খালি চোখে দেখলে মনে হবে গত বছরের তুলনায় এই বছর জুলাই মাসে সিগারেট বিক্রি ৪৫ শতাংশ কমেছে। মূলত ২০২৫ সালে বিএটি মহাখালী থেকে ফ্যাক্টরি স্থানান্তর করে সাভারে নেওয়া হয়। ফ্যাক্টরি স্থানান্তরের জন্য ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ডাবল সিগারেট বাজারে সরবরাহ করা হয়। অথচ বিএটি এনবিআর ও অর্থমন্ত্রণালয়কে বুঝাতে চাচ্ছে যে, দাম বাড়ার কারণে জুলাই মাসে বিক্রি কমে গেছে, যাতে রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়েছে। সঙ্গে চোরাচালান ও অবৈধ সিগারেটের বাজার বেড়েছে। কিন্তু ফ্যাক্টরি স্থানান্তরের কারণে গতবছর বাজারে বাড়তি সিগারেট সরবরাহ করেছে, তার তথ্য গোপন রেখেছে বিএটি। শুধু তাই নয়, বিএটির গত পাঁচবছরের জুলাই মাসের সিগারেট বিক্রির হিসাব দেখলেও খালি চোখে সবাই হিসাব কষতে পারবেন। হিসাবে দেখা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত জুলাই মাসে গড় বিক্রি ছিলো প্রায় ২১৮ বিলিয়ন শলাকা, যা ২০২৬ সাথে সামসঞ্জ্য ছিলো।
অন্যদিকে, জুলাই মাসে রাজস্ব আদায় ৪৫ শতাংশ কম হয়েছে। কিন্তু ২০২১-২৫ পর্যন্ত গড় ১ হাজার ৩৫৩ কোটির জায়গায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ১ হাজার ৬৮৮ কোটি আদায় হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছর ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছর ৯৩৬ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবচর ১ হাজার ২৪১ কোটি, ২০২৪-২৫ অর্থবছর ৩৪৫ কোটি ও ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুলাই মাসে ১ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এনবিআর ও অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝানোর চেষ্টা করছে।
এনবিআর সূত্রমতে, এনবিআরের অনুমোদিত মূল্যস্তরের মধ্যে উৎপাদানকারীদের মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা চেয়ে ১৬ জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয় বিএটি। চিঠিতে শুধু মূল্য নির্ধারণ নয়, মূল্যস্তরের মধ্যে সিগারেটের ব্যান্ডগুলোর এমআরপি পরিবর্তনের বিষয়টি এনবিআরকে অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়। এনবিআর বিএটির প্রস্তাবিত বিষয় অনুমোদন করলে এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে, বৈধ তামাক শিল্পের টেকসইতা শক্তিশালী হবে, ভোক্তাদের অবৈধ ও কর অপরিশোধিত বাজার স্থানান্তর নিরুৎসাহিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
একাধিক সূত্রমতে, বিএটি প্রথমে এলটিইউর কাছে সিগারেটের দাম বর্তমান দামের চেয়ে কম দামে বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এলটিইউকে বুঝানোর চেষ্টা করে যে, আইনের মধ্যে থেকে তারা দাম কমাতে চায়। বিশেষ করে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম। অর্থাৎ ‘তদুর্ধ্ব’ শব্দের যথাযথ প্রয়োগ করতে চায় বিএটি। এলটিইউ বিএটিকে জানায়, সিগারেটের দাম একবার যে দামে বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়, মূসক আইন ও এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তীতে তার থেকে কম দামে ঘোষণা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া এলটিইউর হাতে দাম কমানোর কোন সুযোগ নেই, দাম কমানো বা বাড়ানোর একমাত্র ক্ষমতা অর্থমন্ত্রী ও এনবিআরের হাতে রয়েছে। এলটিইউতে সুবিধা করতে না পেরে বিএটি এনবিআরের সদস্য, পরে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে। কিন্তু এনবিআর চেয়ারম্যান দাম কমানোর বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বাজেট ছাড়া দাম কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে অর্থমন্ত্রী চাইলে কমাতে পারে। চেয়ারম্যানের কাছে কোন সুযোগ না পেয়ে বিএটি অর্থমন্ত্রীর কাছে ধর্না দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অপরদিকে, বিএটির চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ বাজেটে সিগারেটের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বৈধ সিগারেট বাজার উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। বাজেটের আগে ৮ মে বিএটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে সামনে রেখে বাজেটে সিগারেটের দাম নিয়ে প্রস্তাব দেয়। যাতে ‘স্পেসিফিক এক্সাইজ কাঠামো’ ও তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। বিএটি বলে, মোট সিগারেটে ভলিউমের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তর থেকে। ফলে এসব স্তরে ফ্লোর প্রাইস যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে রাজস্ব বাড়বে। স্পেসিফিক কর কাঠামো একমাত্র মডেল, যা ইন্ডাস্ট্রিকে মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা দেয় এবং এর মাধ্যমে পূর্বে হারানো কিছু ভলিউম পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি করে।
চিঠিতে বলা হয়, অতিমাত্রায় সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বৈধ বাজারের বিক্রয় পরিমাণকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত রাজস্ব বৃদ্ধির স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করতে পারে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বৈধ সিগারেট বিক্রয়ের পরিমাণ ও রাজস্ব উভয় ক্ষেত্রেই নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। আর বর্তমান বাজেটের পরও তা অব্যাহত আছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যচাপের ফলে ভোক্তারা ধীরে ধীরে বৈধ ও কর পরিশোধকারী বাজার থেকে অবৈধ ও বিকল্প বাজারে স্থানান্তরিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈধ শিল্পের রাজস্ব সম্ভাবনাকে ক্ষুন্ন করবে। বিএটির দাবি, এনবিআর অনুমোদিত মূল্যস্তরের মধ্যে প্রস্ততকারদের বৈধ মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা প্রদান বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, এনবিআর সিগারেটের প্রযোজ্য মূল্যস্তর এবং সংশ্লিষ্ট সীমামূল্য নির্ধারণ ও অনুমোদন করে থাকে। ওই অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা ঐতিহাসিকভাবে পৃথক ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ ও ঘোষণা করেছে। এবং সংশ্লিষ্ট সকল ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেছে। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ১১৮(ক) অনুযায়ী ১২ জুলাই এলটিইউকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে বিএটি সিগারেটের যে দাম ঘোষণা দেয়, তার থেকে কম দামে বিক্রির বিষয়টি উল্লেখ করে। বিএটি ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। চিঠিতে ওই প্রস্তাবের পক্ষে সাফাই হিসেবে বিএটি বলছে, ৭ জুন বাজেটে ১২৯ নং এসআরও এর মাধ্যমে এনবিআর সিগারেটের জন্য মূল্যস্তরভিত্তিক মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করেছে। সেই মূল্যস্তরসমূহের নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা আইনগতভাবে তাদের পণ্যের এমআরপি নির্ধারণের অধিকারী। তবে সাধারণ আদেশ জারির পর প্রস্তুতকারকদের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে গেছে। বিএটি বলছে, স্বাধীনতা দেওয়া হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রাজস্ব আদায় সম্ভাবনা রয়েছে। আর না করলে বৈধ বিক্রি সংকুচিত হতে থাকলে গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ শতাংশ রাজস্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এনবিআর অনুমোদিত মূল্যস্তরের মধ্যে অবস্থিত ব্র্যান্ডসমূহের এমআরপি পরিবর্তনের বিষয়ে বিএটির প্রস্তাবিত ব্যাখ্যা অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিএটির হিসাব অনুযায়ী, মূল্যস্তরের মধ্যে সীমিত স্বাধীনতা দেওয়া হলে বর্তমান কাঠামোর তুলনায় সিগারেট বিক্রি প্রায় ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন শলাকা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব বাড়তে পারে প্রায় ৩ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। বিএটির মূল যুক্তি এখানেই। প্রতিষ্ঠানটি বোঝাতে চাইছে, তাদের পণ্যের দাম বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার সুযোগ দেওয়া হলে শুধু কোম্পানির বিক্রি নয়, সরকারের রাজস্বও বাড়বে। অপরদিকে, বিএটির নিম্নস্তরের ব্র্যান্ডের মূল্য পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএটি তাদের নিম্নস্তরের ব্র্যান্ডের মূল্য ৭২ টাকা থেকে ৬২ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল, যা নিম্নস্তরের সিগারেটের নির্ধারিত বেস মূল্য। তবে এনবিআরের জারি করা একটি বিশেষ আদেশের কারণে নিম্নমুখী মূল্য পুনর্নির্ধারণের সুযোগ না থাকায় তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা বলছেন, দেশে সিগারেটের মূল্য ইতিহাসে কখনো নিম্নমুখীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পাশাপাশি, তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘদিনের নীতিমূল্য ও কর বৃদ্ধির মাধ্যমে সিগারেটের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা-এর সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক হতে পারে।
নিম্নস্তরের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারা বলছেন, বর্তমানে বিএটি নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬২ থেকে ৭০ টাকা বৃদ্ধি করার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বৈধ সিগারেটের বাজারকে আরও চাপে ফেলতে পারে এবং অবৈধ বাজারকে উৎসাহিত করতে পারে। বর্তমানে অবৈধ বাজারের অংশ আনুমানিক ১৮ শতাংশ। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী এটি প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে ৭-৮ হাজার কোটি টাকা। তারা বলছেন, বর্তমান সিগারেটের মূল্য কাঠামোকে স্থিতিশীল হতে দেওয়া এবং অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রেখে এবং অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে, বৈধ বাজার থেকে সরকারের রাজস্ব প্রত্যাশিত হারে বৃদ্ধি পাবে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএটির ব্যবস্থাপক (এক্সটারনাল কমিউনিকেশনস) বায়েজিদ জোয়ার্দারকে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বক্তব্যের বিষয় লিখে দিলে তিনি সিন করেন। তবে কোন জবাব দেননি।
অপরদিকে, বিএটিবির দাম কমানোর প্রস্তাব রাজি হলে সিগারেটে রাজস্ব ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কমানোর জন্য এনবিআরকে বিএটি যে প্রস্তাব দিয়েছে, সেটাতে রাজি হলে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাবে সরকার। একইসঙ্গে এ প্রস্তাব আমলে নিলে তা তামাক করনীতির ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে, যা তামাক কোম্পানিকে লাভবান করবে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব আয় উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হবে।
বিএনটিটিপি বলছে, বিএটির ডারবি, পাইলট ও হলিউড ব্র্যান্ডের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম ৭২ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ব্র্যান্ডের দাম ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষ্যে তারা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) এবং সাধারণ আদেশ নং ০২/ভ্যাট/২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রস্তুতকারকরা মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা পায়। তামাক কোম্পানিকে এই ধরণের স্বাধীনতা প্রদান করা হলে তা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে, যা রাজস্ব আয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিএটিবির প্রস্তাবে রাজি হলে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে সরকার রাজস্ব হারাবে প্রায় ৭ টাকা ৪৭ পয়সা এবং মধ্যম স্তরের প্রতি প্যাকেটে রাজস্ব হারাবে ১৩ টাকা ২৮ পয়সা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রান্ডভিত্তিক বিক্রির তথ্য অনুসারে, বিএটির ডারবি, পাইলট ও হলিউড সিগারেরেট সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি শলাকা এবং লাকি স্ট্রাইক ১৮০ কোটি শলাকা। নিম্নস্তরে ১০ শলাকার দাম ৯ টাকা কমিয়ে ৭২ থেকে ৬৩ টাকা এবং লাকি স্ট্রাইকের দাম ১৬ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ৯২ টাকা করার সুযোগ দিলে সরকার ২ হাজার ২১১ কোটি টাকার বেশি (নিম্ন স্তরে ১৯৭২ কোটি ও মধ্যম স্তরে ২৩৯ কোটি টাকা) রাজস্ব হারাবে।
বিএটিবির আবেদনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনটিটিপি বলছে, গত ৭ জুন জারি করা এসআরও নং ১২৯-আইন/২০২৬/৩৩৪-এর ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, বাজারে ইতোমধ্যে প্রচলিত কোনো সিগারেট ব্র্যান্ডের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কমানো যাবে না। প্রতিষ্ঠিত এই নীতিগত সুরক্ষা একটিমাত্র বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবসায়িক পূর্বাভাস ও মুনাফার স্বার্থে শিথিল করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কৌশলের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় করনীতি পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্প-প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের বিশেষ সুবিধা দাবি করার সুযোগ পাবে, যা সামগ্রিক কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে। চলতি অর্থবছরে এনবিআর নিম্ন স্তরের সিগারেটের এমআরপি ৬০ টাকা থেকে ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করলেও বিএবি গত দুই বছর ধরে এই স্তরের সিগারেটের মূল্য ৭২ টাকা নির্ধারণ করে বাজারজাত করে আসছে। অনুমান নির্ভর রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে তারা দাম কমানোর যে আবদার করেছে তা অযৌক্তিক এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নীতি ও অবস্থানের সথে সাংঘর্ষিক। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রস্তাব। একদিকে তারা সিগারেরটর মূল্য নির্ধারণে বাজেট প্রস্তাবে সরকারের ব্যবহৃত ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দের সুযোগ নিয়ে সিগারেটের উচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে আসছে; অন্যদিকে তারা দাম কমিয়ে বাজার দখলের কৌশল হিসেবে সরকারের নীতির পরিবর্তন চাইছে। কেবল মাত্র নিজেদের বানিজ্যেক স্বার্থেই তারা এই স্ববিরোধী অবস্থান নিয়েছে।
** বিএটিবির প্রস্তাব মানলে সিগারেটে রাজস্ব কমবে ২২০০ কোটি টাকা
** বিএটি’র ২৪.৩৩ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন নাকচ
** বিএটির এমডিসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
** বিএটিবির এমডিসহ চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
** বিএটির তামাক ভর্তি ট্রাকে আসছে গাঁজা!
** বিএটিবিকে ছাড়তে হবে মহাখালীর প্রধান কার্যালয়
** বিএটিবি শ্রমিকদের ২২ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
** বিএটির কারখানাকে দোকান হিসেবে লাইসেন্স
** বিএটি চার অর্থবছরে ফাঁকি দিয়েছে ৩৭৯ কোটি টাকা
** ‘বিএটির’ ছয় কারখানা অনুমোদনহীন, কর্মপরিবেশ নেই
** বিএটিতে শ্রমিকের শ্রম আছে, অধিকার নেই
** বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করতে বিএটি-স্বপ্নর চুক্তি!
** রাজস্বের ২১০.৮৬ কোটি টাকা ‘বিএটির’ পকেটে
** শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে ‘বিএটির’ লোক দেখানো অনুদান
** বিএটির পকেটে রাজস্বের ৫০০ কোটি টাকা!
** খুচরা বিক্রেতার ‘লাভ’ বিএটির পকেটে
** বেশি দামে সিগারেট বিক্রিতে ফাঁকি ৩৭৮৪ কোটি টাকা
** বেশি দামে সিগারেট বিক্রি, মীনা বাজারকে জরিমানা
** রাজস্বের ১৩.২৫ কোটি টাকা জেটিআই’র পকেটে
** ‘খুচরা’ আর ‘সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য’র ফাঁকে রাজস্ব ফাঁকি
** মহাখালী থেকে সরছে বিএটিবির প্রধান কার্যালয়
