সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধ পেল ডিএসই

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল রোববার ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল সরেজমিনে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদন বা স্বাভাবিক কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন পায়নি।

ডিএসইর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, পরিদর্শক দল সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের কারখানা প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও উৎপাদন বন্ধ দেখতে পায়। তবে কারখানা বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে না পারায় কোম্পানিটিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নামিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের শেয়ার কেনার জন্য ঋণ সুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল। কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থাও বেশ কিছুদিন ধরে দুর্বল। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ২৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির নিট সম্পদমূল্যও ঋণাত্মক। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৩ টাকা ৮১ পয়সা।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধ থাকার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালেও ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে সেগুলো বন্ধ অবস্থায় পেয়েছিল। ওই সময়ও পরিদর্শক দল কারখানা ও কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। এবারও এমন এক সময়ে পরিদর্শন করা হলো, যখন কোম্পানিটির কার্যক্রম ও আর্থিক তথ্য নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ডিএসইর অনুরোধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিটির পরিদর্শনের অনুমোদন দেয়।

ডিএসই সাধারণত তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির কার্যক্রম, প্রকাশিত তথ্য বা পরিচালন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে। সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক তদারকির অংশ হিসেবে এ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর আগে ৯ জুলাই ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকের কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদন বন্ধ দেখতে পেয়েছিল। ২৫ জুন একটিভ ফাইন কেমিক্যালসের কারখানা পরিদর্শনেও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ পাওয়া যায়।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ শ্রেণিতে লেনদেন হচ্ছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২৩৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ারসংখ্যা ২৩ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার।