চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান জ্যাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় এসব কাঁচামালের শুল্ক-কর বাবদ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রতিষ্ঠানটির ৫৯০, কর্নেল জোন্স রোড, উত্তর কাট্টলী, পাহাড়তলী, চট্টগ্রামের কারখানা ও বন্ডেড গুদামে পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধার আওতায় এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করে থাকে।
পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানের অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্যের সঙ্গে বন্ডেড গুদামে থাকা কাঁচামালের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখা হয়। এতে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অনলাইন ব্যবহার অনুমোদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা। তবে সরেজমিনে পাওয়া যায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি।

অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী থাকার কথা থাকলেও ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল গুদামে পাওয়া যায়নি। প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার কেজির এই ঘাটতি নিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করছে। সর্বশেষ আমদানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, পাওয়া না যাওয়া এসব কাঁচামালের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ টাকা। এর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক-কর বাবদ পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৪ টাকা।
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের এই ঘাটতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাঁচামালগুলো অনুমোদিত উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, নাকি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করছে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা। বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
