কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় রবি শস্য চাষের শুরুতেই রাসায়নিক সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে সময়মতো বীজ বুনতে পারছেন না অনেক কৃষক। তাতে প্রস্তুত করা জমি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে রবি শস্যের আবাদ ব্যাহত হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ খুচরা বাজার থেকে চড়া দামে রাসায়নিক সার কিনছেন বলেও অভিযোগ।
চলতি বছর হাওরে অতিভারী বৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে কৃষকরা যখন নতুন করে রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই দেখা দিয়েছে সারের চরম সংকট। জমি চাষ ও বীজতলা প্রস্তুত করতে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। সরেজমিনে উপজেলার কুর্শা, পাচঁরুখী, ষাইটধার, মোহরকোনা, দামপাড়া, কারপাশা, আহসানপুর, সিংপুর, ভাটিবরাটিয়া, জাফরাবাদ ও ছেত্রা হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ জমি ভেসে উঠেছে।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা দ্রুত জমি চাষ করে সরিষা, মাসকলাই, আলু, ভুট্টা ও মরিচসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে জমি প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার না পাওয়ায় বীজ বপন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। নিকলী সদরের কৃষক মো. হারিছ মিয়া (৬০) বলেন, এবার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় জমি জেগে উঠেছে। হালচাষ করে চার দিন ধরে জমি বীজ বপনের উপযোগী করে রেখেছি। কিন্তু কোথাও সার পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে সারের অভাবে প্রস্তুত করা জমি নষ্ট হয়ে যাবে।
শহরমূল এলাকার কৃষক শামছু মিয়া (৫২) দুঃখ প্রকাশ করেন, তার ৭ একর জমির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার নিজ ইউনিয়নের ডিলারের কাছে সার নিতে গেলেও পাননি। ডিলার তাকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে বলেছেন। ফলে সার না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে তাকে। গুড়ই ইউনিয়নের কৃষক মো. আল-আমিন (৪০) ক্ষোভ প্রকাশ করেন, সপ্তাখানেক আগে জমি প্রস্তুত করে রেখেছি। কিন্তু ইউরিয়া সারের অভাবে জমি পড়ে থাকায় মাটি আবার শক্ত হয়ে যাচ্ছে। সার পাওয়ার জন্য বারবার ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা সার দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ডিলাররা জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবরের পর সার পাওয়া যেতে পারে। ফলে প্রয়োজনীয় সার না থাকায় সময়মতো রবি শস্যের বীজ বপন করতে পারছেন না। এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. বুরহান (৪৫) জানান, ‘ভুট্টা চাষের জন্য ৯ একর জমি প্রস্তুত করেছি। তবে সারের অভাবে বীজ বপন করতে পারছি না। প্রতি বিঘা জমিতে যেখানে ৪০-৪৫ কেজি সার প্রয়োজন, সেখানে ডিলাররা ১৫ কেজি করে সার নিতে বলছেন। চাহিদার তুলনায় সার খুবই নগণ্য। এমন সংকট চলমান থাকলে চাষাবাদে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে আমাদের।’ উপজেলার সার ডিলাররা নিশ্চিত করেন, কৃষকেরা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করছেন। এক ডিলার জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ কেজি ফসফেট সার ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও কৃষকেরা প্রায় ৩০ কেজি ব্যবহার করছেন। এতে সারের চাহিদা বেড়ে সংকট তৈরি হচ্ছে।
সিংপুর ইউনিয়নের বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আজিজুর রহমানের স্বত্বাধিকারী আজিজুর রহমান অবহিত করেন, আসছে রবিবার সকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে সার বরাদ্দের অনুমতি নিয়ে সোমবার সার এনে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল সামাদ জানান, দীর্ঘ শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় সারের সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আগামী অল্পদিনের মধ্যেই এ সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
