বীমা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ না করে সেই টাকায় নতুন পলিসি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন পার হওয়ার পরের এক মাসের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করা হলেও দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বীমাগ্রহীতার নামে নতুন করে কোনো বীমা পলিসি খোলা যাবে না। সম্প্রতি এমন বিধি-নিষেধ আরোপ করে সাকুর্লার জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা পরিশোধ জীবন বীমা গ্রাহকদের সুরক্ষার স্বার্থে এবং বীমা খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ দাবি, মৃত্যুদাবি কিংবা সারভাইভাল বেনিফিটের পুরো টাকা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এককালীন একলপ্তে বুঝিয়ে দিতে হবে। কোনো অজুহাতে এই অর্থ কেটে রেখে বা সমন্বয় করে নতুন পলিসি গছিয়ে দেওয়া যাবে না। বীমা দাবির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার মাসের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করা না হলে, দাবি পরিশোধের তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ওই বীমাগ্রহীতার নামে ওই কোম্পানি নতুন কোনো বীমা পলিসি খুলতে পারবে না।
এমন সার্কুলার জারির ব্যাখ্যায় আইডিআরএ বলেছে, কিছু জীবনবীমা কোম্পানি গ্রাহকের মেয়াদোত্তীর্ণ বীমা দাবি, মৃত্যু দাবি কিংবা সারভাইভাল বেনিফিট প্রদানের সময় তাদের একই কোম্পানিতে নতুন পলিসি কিনতে বাধ্য করছে মর্মে তথ্য মিলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের পলিসির প্রাপ্য অর্থ থেকে নতুন পলিসির প্রিমিয়াম বাবদ টাকা কেটে রেখে বা সমন্বয় করে অবশিষ্ট সামান্য টাকা গ্রাহক বা নমিনিকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বীমা দাবি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি গ্রাহক বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তির (নমিনি) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার বাধ্যবাধকতা আছে। দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন পলিসি কিনতে বাধ্য করা বা নতুন পলিসির প্রিমিয়াম হিসেবে দাবি থেকে টাকা কাটার আইনগত কোনো সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বীমা গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পুরো বীমা খাতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আইডিআরএ নির্দেশ দিয়েছে, দাবি মেটানোর সময় প্রযোজ্য সরকারি রাজস্ব (কর ও ভ্যাট) ব্যতীত অন্য কোনো অজুহাতে কোনো চার্জ বা ফি কাটা যাবে না। সম্পূর্ণ পাওনা টাকা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এককালীন স্থানান্তর করতে হবে।
