মাহমুদ গ্রুপের ৭৬৬ টন বন্ডের কাঁচামালের হদিস নেই

** বন্ড সুবিধার ৪৫৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল, ১৫৬ মেট্রিক লবণ, ১৫৪ মেট্রিক টন সুতা বিক্রি
** বন্ড লাইসেন্সধারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি বন্ধ, বিআইএন লক করার সুপারিশ
** বন্ধ চার প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিতে গরমিল, নিরীক্ষা হয়নি, কাঁচামাল সব বিক্রি করেছে

বন্ড বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি হয়েছে সুতা, কেমিক্যাল ও লবণ। এর মধ্যে বেশিরভাগ কাঁচামাল প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করেনি। আবার কোন কাঁচামাল ওয়্যারহাউজে প্রবেশ করলেও তার হদিস পাওয়া যায়নি। মূলত শুল্ককর ফাঁকি দিতে বন্ড সুবিধার এসব কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণ করে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাও আবার এক বা দুই মেট্রিক টন নয়-প্রায় ৭৬৬ মেট্রিক কাঁচামাল। যার মধ্যে বন্ড সুবিধার ৪৫৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল, ১৫৬ মেট্রিক টন লবণ ও ১৫৪ মেট্রিক টন সুতা রয়েছে। পোশাক খাতের মাহমুদ গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ বন্ড সুবিধার কাঁচামাল অবৈধভাবে অপসারণ করে খোলাবাজারে বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। সম্প্রতি কমিশনারেটের পৃথক প্রিভেন্টিভ টিমের পরিদর্শনে এই ভয়াবহ অনিয়ম উঠে এসেছে। এই চারটি প্রতিষ্ঠানের বিআইএন লক করার কাজ শুরু করেছে বন্ড কমিশনারেট। তবে এই চারটি প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকার বন্ড সুবিধার কাঁচামালের হিসাব নেই, যা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
mahmudgroup logo
সূত্রমতে, মাহমুদ গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ড সুবিধার যে কাঁচামাল আমদানি করে, তার বেশিরভাগ বিক্রি করে দিয়েছে-এমন অভিযোগ পায় ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। এরই প্রেক্ষিতে পৃথক প্রিভেন্টিভ দল গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। যাতে বন্ড সুবিধার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রিভেন্টিভ টিম মাহমুদ গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করে, যার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি কমিশনারেট থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো-মাহমুদ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড, ডং বেং ডাইং লিমিটেড ও ডং বেং টেক্সটাইল লিমিটেড। তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাহমুদ ফেব্রিক্স ৩১০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল, ডং বেং ডাইং ১২৭ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও ডং বেং টেক্সটাইল ১৯ মেট্রিকসহ মোট ৪৫৬ মেট্রিক টন কেমিক্যাল বিক্রি করে দিয়েছে। ডং বেং ডাইং ৮৫ মেট্রিক টন লবণ ও ডং বেং টেক্সটাইল ৭১ মেট্রিক টনসহ মোট ১৫৬ মেট্রিক টন লবণ বিক্রি করে দিয়েছে। এছাড়া ডং বেং ডাইং ৪ মেট্রিক টন সুতা, ডং বেং টেক্সটাইল ১৫০ মেট্রিক টনসহ মোট ১৫৪ মেট্রিক টন সুতা বিক্রি করে দিয়েছে।

মাহমুদ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেডের পরিদর্শন প্রতিবেদন ও কারণ দর্শানো নোটিশ অনুযায়ী, গাজীপুরের কালিয়াকৈর চন্দ্রা বাড়ইপাড়া এলাকার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহমুদ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড। ২০১৯ সালে বন্ড লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটি ৩১০ মেট্রিক টন কেমিক্যাল অবৈধভাবে অপসারণ করে বিক্রি করে দিয়েছে। বন্ড কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এই কেমিক্যাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজে পাননি। যার মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার ৭৯৩ কেজি বা ২০৫ মেট্রিক টন কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৯২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আর ১০৪ মেট্রিক টন কেমিক্যাল স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করেছে, যা মূসক আরোপযোগ্য মূল্য প্রায় ৬১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। যাতে প্রযোজ্য মূসক প্রায় ৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। শুল্ককর ও মূসকসহ ৩১০ মেট্রিক টন কেমিক্যালে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অবৈধভাবে এই কেমিক্যাল অপসারণ ও ফাঁকি দেওয়া শুল্ককর পরিশোধে সম্প্রতি বন্ড কমিশনারেট এই প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানে ইউপি বর্হিভূত ৫২ মেট্রিক টন সুতা ও ১২ মেট্রিক টন ডাইস পাওয়া গেছে, যার ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠান দিতে পারেনি। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশনারেট।
Mahmud Group 02

অপরদিকে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, মাহমুদ ফেব্রিক্স অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৪৪ লাখ ৯১ হাজার ১০৯ কেজি (৪৪৯১ মেট্রিক টন) সুতা, কাপড় ও কেমিক্যাল আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা ও প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় সাড়ে ৪২ কোটি টাকা। আর ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রপ্তানি করেছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৪ কেজি (৩৫৮ মেট্রিক টন)। অর্থাৎ প্রায় ৪১ লাখ কাঁচামালের হিসাব নেই।

অপরদিকে, ডং বেং ডাইং লিমিটেড পরিদর্শন প্রতিবেদন ও কারণ দর্শানো নোটিশ অনুযায়ী, ২০০৫ সালে বন্ড লাইসেন্স পাওয়া কালিয়াকৈর চান্দনা উলুসারা এলাকার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮২৭ কেজি বা ১২৭ মেট্রিক কেমিক্যাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজে পাননি কর্মকর্তারা। এই কেমিক্যাল শুল্ককর ফাঁকি দিতে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দিয়েছে। যার মধ্যে ৬৮ হাজার ৫৪০ কেজি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা হয়েছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ, প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৭৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। বন্ডের কাঁচামাল অবৈধভাবে বিক্রি ও ফাঁকি দেওয়া শুল্ককর পরিশোধে এই প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দুইটি নিরীক্ষা করা হয়নি। যদিও প্রতি বছর নিরীক্ষা করার বিধান রয়েছে। নিরীক্ষা না করায় প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ জারি করেছে কমিশনারেট। আবার একই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের সময় ৯০ মেট্রিক টন সুতা ও লবণ পায়নি কর্মকর্তারা। যার মধ্যে ৮৫ মেট্রিক টন লবণ ও ৫ মেট্রিক টন সুতা রয়েছে। অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া এই সুতা ও লবণের উপর প্রায় ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা শুল্ককর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এই শুল্ককর পরিশোধে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, ডং বেং ডাইং লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে বন্ড সুবিধায় মোট ৬৯ লাখ ১২ হাজার ৭১৮ কেজি (৯৬১২ মেট্রিক টন) সুতা, কেমিক্যাল, লবণ ও কাপড় আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে কোন সুতা আমদানি করেনি, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি সুতা আমদানি করেছে। আর মাত্র ১০টি চালানে ৩১ হাজার ৮০৩ কেজি পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। যার মধ্যে ২০২২ সালে দুইটি, ২০২৩ সালে ৫টি ও ২০২৪ সালে ৩টি চালান রপ্তানি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২২ সালের পর কোন নিরীক্ষা করা হয়নি। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুইটি নিরীক্ষা না করায় প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।

Mahmud Group 03
অপরদিকে, ডং বেং টেক্সটাইল লিমিটেডের প্রতিবেদন ও কারণ দর্শানো নোটিশ অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানে প্রিভেন্টিভ টিমের সদস্যরা বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৫০ মেট্রিক টন সুতা, ১৯ মেট্রিক টন কেমিক্যাল ও ৭১ মেট্রিক টন লবণ পাননি, যা অবৈধভাবে অপসারণ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ টাকা। অবৈধভাবে অপসারণ ও শুল্ককর ফাঁকির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করেছে বন্ড কমিশনারেট। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা করা হয়নি। সেজন্য প্রতিষ্ঠান আলাদা নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডং বেং ডাইং ও ডং বেং টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে ইউপি বর্হিভূত কাঁচামাল মজুদ, এক ওয়্যারহাউজের কাঁচামাল অন্য ওয়্যারহাউজে মজুদ, অননুমোদিত শেড তৈরিসহ কাস্টমস আইন ভঙ্গের একাধিক প্রমাণ পেয়েছেন বন্ড কর্মকর্তারা। যার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একাধিক কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের হিসাব অনুযায়ী, ডং বেং টেক্সটাইলস লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার বছরে বন্ড সুবিধায় ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮২ কেজি (৫৯৭৬ মেট্রিক টন) সুতা, কেমিক্যাল ও লবণ আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১৭০ কোটি টাকা ও শুল্ককর প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে দুইটি ও ২০২৪ সালে একটিসহ মোট তিনটি চালানে ৮ হাজার ২৭৫ কেজি পণ্য রপ্তানি করেছে।

চারটি প্রতিষ্ঠানের বিআইএন লক করার সুপারিশ করা হয়েছে

এনবিআর সূত্রমতে, মাহমুদ গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি না থাকা এবং সঠিক সময়ে নিরীক্ষা না করায় চারটি প্রতিষ্ঠানের বিআইএন বা ভ্যাট নিবন্ধন লক বা স্থগিত করার সুপারিশ করেছে প্রিভেন্টিভ টিম। সুপারিশ অনুযায়ী বিআইএন লক করার কার্যক্রম শুরু করেছে বন্ড কমিশনারেট। চারটি প্রতিষ্ঠান হলো-মাহমুদ ইন্ডিগো লিমিটেড, মাহমুদ জিন্স লিমিটেড, মাহমুদ ওয়াশিং প্ল্যান্ট লিমিটেড ও মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড। বন্ধ থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে। বন্ড কর্মকর্তাদের ধারণা, চারটি প্রতিষ্ঠান-ই বিপুল পরিমাণ বন্ড সুবিধার কাঁচামাল আমদানি করেছে, যার বেশিরভাগ বিক্রি করে দিয়েছে। সেজন্য কোন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।

অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তথ্যানুযায়ী, মাহমুদ ইন্ডিগো লিমিটেড ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৬০ কেজি (২৯৩৮ মেট্রিক টন) সুতা, লবণ ও কেমিক্যাল আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৩৯ কোটি টাকা ও শুল্ককর প্রায় ১০ কোটি টাকা। মাহমুদ জিন্স লিমিটেড ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৮৫ কেজি (৪০৬৯ মেট্রিক টন) সুতা ও এক্সেসরিজ আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা ও শুল্ককর ১৮১ কোটি টাকা। ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ৮৯৭ কেজি পণ্য রপ্তানি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার অপব্যবজারে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা শুল্ককর বকেয়া রয়েছে। মাহমুদ ওয়াশিং প্ল্যান্ট লিমিটেড ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৫১ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ কেজি (৫১৭১ মেট্রিক টন) কাঁচামাল আমদানি করেছে। যার মূল্য প্রায় ৪২ কোটি টাকা, শুল্ককর প্রায় ১২ কোটি টাকা। মাহমুদ ডেনিমস লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৫ কেজি (৩৫,৩৬৯ মেট্রিক টন) মেশিনারিজ, কাপড়, সুতা, কেমিক্যাল ও এক্সেসরিজ আমদানি করেছে। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৮৪৪ কোটি ৪০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৪ টাকা, যাতে প্রযোজ্য শুল্ককর ১১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮৮ টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের ২০২০ সালে কোন রপ্তানি নেই। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ লাখ ৯২ হাজার ৬৮০ কেজি (২১৯২ মেট্রিক টন) পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৫১ কোটি ৯১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ টাকা।

বন্ড সুবিধার কাঁচামাল বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন মাহমুদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমাকে চিঠি দিয়েছে, আমি উত্তরও দিয়েছি। আমরা একশো পার্সেন্ট ঠিক আছি।’ নিরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ফ্যাক্টরি বন্ধ। সোস্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমি দীর্ঘদিন ব্যাংকেরও সাপোর্ট পাইনি। নিরীক্ষা করতে পারিনি।’ বন্ধ বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিতে গরমিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে বন্ধ। গরমিল তথ্য মনে হয় ঠিক না। আমি নিয়মমাফিক সব করেছি। নিয়মের বাহিরে কিছু নেই।’