ভাটারায় শালিসের নামে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, মামলা

রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার কাঁঠালদিয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শালিসের নামে ডেকে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও জোরপূর্বক ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ রাসেদ মোল্লা (৩৭) বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি হিসেবে কাঁঠালদিয়া এলাকার মোঃ হায়দার আলী (৪০) এবং তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ওরফে নাসরিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ৯৮ ধারার অধীনে দায়ের করা হয়।

ঘটনার বিবরণ ও পটভূমি

মামলার আরজি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালে বাদী রাসেদ মোল্লা এবং ১ নং বিবাদী হায়দার আলী যৌথভাবে ভাটারা থানাধীন কাঁঠালদিয়া এলাকায় জমি ক্রয় করেন। উক্ত সময়ে হায়দার আলী বিদেশে অবস্থান করায় তিনি রাসেদ মোল্লার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা পাঠান এবং সেই টাকা দিয়ে উভয় পক্ষের নামে জমি কেনা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হায়দার আলী দেশে ফিরে এলে জমিতে ঘর তোলা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়েছিল, যার ভিডিও রেকর্ড বাদীর নিকট সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে পরবর্তীতে বিবাদীগণ রাসেদ মোল্লার অংশের জমি তাদের নিকট বিক্রয় করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বাদী জমি বিক্রি করতে অস্বীকার করলে বিবাদীগণ মিথ্যা দাবি তোলেন যে, রাসেদ মোল্লা তাদের নিকট ১০ লক্ষ টাকা পাবেন। প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি পেয়ে বাদী এর আগে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭(সি) ধারায় একটি মামলা (মামলা নং ১১৯/২০২৬) এবং ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৫২৩, তারিখ: ০৪/০৬/২০২৬) দায়ের করেন।

স্কুলঘরে লাইট নিভিয়ে হুমকির অভিযোগ

আরজিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৫:০০টা থেকে ৭:০০টার মধ্যে বিবাদীগণ শালিসের কথা বলে রাসেদ মোল্লাকে কাঁঠালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ৫০-৬০ জন লোক অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে বিবাদীগণ ভুয়া মৌখিক সাক্ষী উপস্থাপন করে রাসেদ মোল্লার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা স্কুলঘরের বাতি নিভিয়ে দেন এবং রাসেদ মোল্লাসহ তার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করার হুমকি প্রদান করেন। প্রাণের ভয়ে বাধ্য হয়ে রাসেদ মোল্লা ১০০ টাকার একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প (যার নম্বর: গড় ২০৭৪৮৪১) এবং একটি কার্টিজ পেপারে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। এতে ১৫ দিনের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধের ভুয়া অঙ্গীকারনামা লিখে নেওয়া হয়।

পরিবারসহ এলাকাছাড়া ভুক্তভোগী

উক্ত ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী রাসেদ মোল্লা পরিবার ও সন্তানদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে হুমকি পাওয়ার কারণে তিনি বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। আইনি প্রতিকার ও বিবাদীদের বাসা তল্লাশি করে জোরপূর্বক নেওয়া স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে তল্লাশি পরোয়ানা (Search Warrant) জারির আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
Bhatara 1
মানবতার জীবন পার করছেন বলে রাশেদ মোল্লা দাবি করেন সন্তানরা কবে ফিরবে প্রিয় বিদ্যালয়ে খুব শিগগিরই তাদের পরীক্ষা, ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েও মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো অনিশ্চিত নির্বাসন, এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহধর্মিনী মোসাম্মৎ কাকলি বেগম তিনি বলেন তার আপন বোন নাসরিন বেগম ও দুলাভাই হায়দার আলী বিচারের নামে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে অমানবিক নির্যাতনের গল্প।

ভাটারা থানাধীন কাঁঠাল দিয়ার সেই বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে মোঃ হায়দার আলী (৪০) ও নাসিমা বেগম ওরফে নাসরিন এই দম্পতির সাথে সাক্ষাতে কথোপকথনের চেষ্টা করলেই বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি, অবশেষে মুঠোফোনে একাধিক চেষ্টায় নাসরিন বেগমের সাথে কথা বলার সময় তিনি জানান স্বামী হায়দার আলী বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন এই বিষয়ে থানায় একটি ডায়রি করা আছে বলে অবগত করে, স্বামী হায়দারের মুঠোফোন নাম্বার ও ডায়েরির কপি দিবেন বলে পরবর্তীতে তা দেননি, কথোপকথনের সময় তিনি নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও বলেন আইনি সহায়তা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে বিচারের নামে জোর-পূর্বক অবৈধ ইস্টাফ করা হুমকি ও বাড়ি থেকে বের করাটা আইন অবমাননা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তাতে হা বলে সম্মতি জানান।

ঘটনার পরবতী নিজেকে বাচাতে তাৎক্ষণিক বিদেশ পাড়ি দেওয়া মোঃ হায়দার আলী (৪০) এর মুঠোফোনের নাম্বার সংরক্ষণ করে যোগাযোগের একটা সময় তার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়, তবে তিনি নিজেকে ব্যস্ত দেখান কথা বলার সময় পান না, তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি টাকা পাই টাকা দিতে বলেন, কিসের টাকা পাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে স্ট্যাম্প আছে, একইসাথে তাৎক্ষণিক বলেন এই সব মামলায় আমার কনো মাথা ব্যথা নেই যা ইচ্ছা তাই
করতে বলেন।

আসামিপক্ষ যাদেরকে বিচারক বলে দাবি করছেন, দিদার, বিদ্যুৎ, আলাউদ্দিন, কাইয়ুম, মোক্তার, অজ্ঞাত নাম না জানা আরো যারা আছে এরা কি আদৌ সামাজিকভাবে দায়িত্বরত বিচারক, স্থায়ী বাসিন্দা, রাজনীতি পরিচয়ধারী, মাদকের যোগানদাতা, কথিত সন্ত্রাসী/চাঁদাবাজ, বাদী/বিবাদী উভয়পক্ষ থেকে নিয়েছিলেন কত নগদ অর্থ নাকি অন্য সুবিধা, আইন কি বলে নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন যে কেউ আইনকে, এ সকল প্রশ্নের উত্তর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।