জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আবারও বাংলাদেশ বেতারে কতিপয় অফিসারের অটোমেটিক চয়েসে পরিণত হয়েছেন স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসনামলের একচেটিয়া সুবিধাভোগী অনুষ্ঠান উপস্থাপক শেখ শাকিল আহমেদ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাপক হয়রানির শিকার এবং বঞ্চিত অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকাসহ বাংলাদেশ বেতারের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান উপস্থাপক শেখ শাকিল আহমেদ বিগত আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময়ে একজন একচেটিয়া সুবিধাভোগী এ্যানাউন্সার হিসেবে ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে টুঙ্গিপাড়া থেকে শুরু করে মেহেরপুরের আম্রকানন থেকে বেতারের যত লাইভ অনুষ্ঠান হতো সবগুলোতে এই শাকিল আহমেদের অংশগ্রহন ছিল অনস্বীকার্য। বিগত ১৬/১৭ বছর আওয়ামী ঘরানোর যেকোনো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় শেখ শাকিল আহমেদ ছিলেন বেতার কর্মকর্তাদের কাছে অটোমেটিক চয়েস।
আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান মানেই শাকিল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল নিশ্চিত। এছাড়া বিগত সময়ে বাংলাদেশ বেতারের সকল সেকশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি বেতারের ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমে সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন করে উপস্থাপনা করতেন তিনি। এবং উপস্থাপনায় কেউ অপারগ হলে এক্সট্রা হিসেবেও তাকে ডাকা হতো বেশিরভাগ সময়। বাংলাদেশ বেতারের নথিপত্র ঘাটলেই শাকিলের এমন অস্বাভাবিকভাবে অংশগ্রহণের তথ্যটি সহজেই পাওয়া যাবে। এভাবে দীর্ঘ সময় একচেটিয়া সুবিধা নিয়েছেন ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে পরিচিত এই এ্যানাউন্সার।
বর্তমান সময়েও বাংলাদেশ বেতার ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় এই দোসরকে সপ্তাহে দুদিন করে উপস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ বেতারের হোম সার্ভিসে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাসহ জাতীয় বেতার ভবনে নিয়মিত সংবাদ পড়ছেন তিনি। এছাড়া বহির্বিশ্ব সার্ভিসেও সংবাদ এবং সংবাদ পর্যালোচনা পড়ছেন সমানতালে।
অথচ জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে এবং বঞ্চিত রেখেছে বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ। বেতারের এই বিমাতাসুলভ আচরণের দায় কতিপয় আওয়ামী সুবিধাভোগী অফিসারের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করার কারণে শেখ শাকিল আহমেদের ইন্দনে অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়। অথচ ফ্যাসিস্টের এই দোসর বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ বেতারে কিভাবে এত সুযোগ সুবিধা পায় এমন প্রশ্ন জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারীসহ জুলাই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝেই বিরাজ করছে। আওয়ামী প্রীতির কারণে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পাশাপাশি শেখ মুজিবের ম্যুরালসহ অসংখ্য জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে ছবি তুলেছেন শেখ শাকিল আহমেদ। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রতি দলীয় আনুগত্যের কারণে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের সাথে যা তা আচরণ করতেন-এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধ। বর্তমানে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক কিভাবে বাংলাদেশো বেতারের মতো প্রথম শ্রেণীর কেপিআইভুক্ত এলাকায় প্রবেশ করে এবং অনুষ্ঠান করে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
