মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত পাল্টা শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থের মধ্যে ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার প্রকাশিত বাজেট পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলেই শুল্ক ফেরতের এই বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। ফেরত দেওয়া অর্থের বেশিরভাগই গত মে ও জুন মাসে পরিশোধ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর একতরফাভাবে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু হলে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয়। এর ফলে শুল্ক পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থবছর শুরু হয়েছে গত অক্টোবর মাসে, আর বাজেটের তথ্য অনুযায়ী ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, দেশের অভ্যন্তরে কারখানা চালু, ভালো বাণিজ্য চুক্তি এবং ফেডারেল বাজেটের ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শুল্ক নীতিকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। এ থেকে আসা আয়ের কারণে গত বছর বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমলেও এখন তা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র তার ঋণের সুদ পরিশোধে ইতোমধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশটির সামরিক ব্যয় প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশের বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নতুন প্রস্তাব যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, তাইওয়ান ও চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর সুরক্ষাবাদী নীতির ওপর আদালতের পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। নতুন শুল্কহার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
