বন্দরের লেনদেনে ১ লাখের কম হলেও আরটিজিএস হবে

বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) পরিচালনগত সেবা মাশুল দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশোধ নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জারি করা প্রজ্ঞাপন (পিএসডি-২ সার্কুলার নম্বর-০৪, তারিখ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিডি-আরটিজিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সব লেনদেনে কোনো সর্বনিম্ন সীমার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

আগে বিডি-আরটিজিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভ্যাসেল বিল, কনটেইনার বিল ও কনসাইনি বিলসহ যাবতীয় অপারেশনাল চার্জ নিষ্পত্তিতে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে। এই বিশেষ লেনদেনের জন্য নির্দিষ্ট ট্রানজেকশন টাইপ কোড TTC 042 নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্দরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়মে এক লাখ টাকার কম অঙ্কের ছোট ছোট বিল বা মাশুল রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্টের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে। ফলে পে-অর্ডার, চেক বা বিলম্বিত পেমেন্ট পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমবে। অর্থ লেনদেন দ্রুত নিশ্চিত হওয়ায় ডেলিভারি অর্ডার, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং বন্দর থেকে কনটেইনার ছাড়করণের প্রক্রিয়া বহুগুণ দ্রুত হবে।

নির্দিষ্ট কোড ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের অটোমেটেড পেপারলেস বিলিং এবং রাজস্ব নিরীক্ষা ব্যবস্থা আরও নিখুঁত ও সহজ হবে। আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও শিপিং এজেন্টদের ছোট ছোট বিল একত্রে জমানোর প্রয়োজন হবে না, যা পুরো লজিস্টিকস খাতের কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা সহজ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।