** গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা ও হলুদ-এ চারটির মিশ্রণ হলে সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে
** বাজারে থাকা দেশি ও বিদেশি সব ব্র্যান্ডের মশলায় ১৫-২০ ধরনের উপাদানের মিশ্রণ বা রেডিমিক্স মশলা বাজারজাত করা হচ্ছে
** কোম্পানিগুলো ১৫-২০ ধরনের রেডিমিক্স দিয়েও চারটি মিশ্রণের ভ্যাট সুবিধা নিচ্ছে, যাতে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে
দেশে প্রতিবছর ১৫-২০ শতাংশ হারে গুঁড়া মশলা, মিক্সড বা রেসিপি প্যাকেটজাত মশলার বাজার বাড়ছে। গুঁড়া মশলার বাজার বাড়তে সরকার ভ্যাট সুবিধা দিয়েছে। সরবরাহ ও ব্যবসায়ী-এই দুই পর্যায়ে ভ্যাট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব কোম্পানি এই ভ্যাট সুবিধার অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা ও হলুদ এই এসকল বা চারটি মশলার মিশ্রণ হলে সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ভ্যাট হার ৫ শতাংশের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে থাকা মিক্সড মশলার বেশিরভাগ-ই এনবিআরকে অন্ধকারে রেখে মশলার ভ্যাটে পুকুর চুরি করতে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের প্রতিটি দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি রেডিমিক্স মশলায় চারটির ঘোষণা দিলেও প্রতিটি রেডিমিক্সে ১৫-২০ ধরনের উপাদান দিয়ে মশলা বাজারজাত করছে। যাতে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। এনবিআর বলছে, চারটি উপাদানের বেশি হলে সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট ১৫ শতাংশ ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। অথচ প্রতিষ্ঠানগুলো মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভ্যাট ছাড়ের সুবিধা ও অব্যাহতির সুবিধা নিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানি নিউজিল্যান্ড ডেইরি রেডিমিক্স মশলার উপকরণ-উৎপাদ যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি এনবিআরের সামনে আসে। পরে দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মশলার বাজার যাচাই করা হয়। যাতে ভ্যাট ফাঁকির ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
এনবিআর সূত্রমতে, বহুজাতিক কোম্পানি নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। এটি বৃহৎ করদাতা ইউনিটের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও মশলার বাজারে ‘শেফস চয়েস’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত মশলা বাজারজাত করে। এটি ক্রিস্টাল গ্রেইনস এর উৎপাদিত ব্র্যান্ড, যার একচেটিয়া বিক্রয় ও বিপণন পরিচালনা করে নিউজিল্যান্ড ডেইরি। এই ব্র্যান্ডের অধীনে মূল গুঁড়া মশলা এবং রেডিমিক্স বা রেসিপি মশলা উভয় ক্যাটাগরি-ই বাজারজাত করা হয়। একক গুঁড়া মসলার মধ্যে রয়েছে- শেফস চয়েস হলুদ গুঁড়া, শেফস চয়েস মরিচ গুঁড়া, শেফস চয়েস ধনে গুঁড়া, শেফস চয়েস জিরা গুঁড়া। আর রেডিমিক্স বা রেসিপি মশলার মধ্যে রয়েছে- বিফ কারি মশলা, চিকেন কারি মশলা, বিরিয়ানি মসলা, হালীম মিক্স, চটপটি মসলা। এই রেডিমিক্সের কোনো কোনো রেসিপিতে ১৫-২০ ধরনের মশলার মিশ্রণ রয়েছে।
সূত্রমতে, প্রতিষ্ঠানটির রেডিমিক্স মশলায় চারটির অধিক মশলার রেডিমিক্স বাজারজাত করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা উপকরণ-উৎপাদ (মূসক ৪.৩) পর্যালোচনা করার পর ধরা পড়ে। ভ্যাট কর্মকর্তারা দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি চারটি মশলার ঘোষণা দেয়, কিন্তু রেডিমিক্সে চারটির অধিক কোথাও কোথাও ১০-১৫টি মশলার মিশ্রণের রেডিমিক্স বাজারজাত করে স্থানীয় সরবরাহে ৫ শতাংশ ভ্যাটের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ব্যবসায়িক পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঘোষণার ফাঁকে ভ্যাটের ফাঁকি ও অব্যাহতি সুবিধা নেয়া হচ্ছে। পরে প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে ডাকা হলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বলেন, ‘উৎপাদন পর্যায়ে গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ বা এ সকল মশলার মিশনের উপর ৫ শতাংশ মূলক ধরা হয়েছে। ব্যবসায়িক পর্যায়ে একই বর্ণনা সম্বলিত পণ্যের উপরে মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।’
এলটিইউর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তৃতীয় তফসিলের টেবিল-১ অনুসারে কেবল স্থানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ বা এ সকল মশলার মিশ্রণের উপর মূসকের হার ৫ শতাংশ। এছাড়া অব্যাহতির এসআরও-১৬০ এর টেবিল-৫ অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ বা এই সকল মশলার মিশ্রণকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখানে এ সকল মশলার মিশ্রণ বলতে চারটি (গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ) মশলাকে বুঝানো হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ড ডেইরির রেডিমিক্স মশলার মিশ্রণে এই চারটি ছাড়াও অতিরিক্ত একাধিক উপাদান রয়েছে। এলটিইউ মনে করে, চারটির অধিক মিশ্রনণ থাকায় সরবরাহকৃত মিক্সড মশলাজাতীয় পণ্যগুলো উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ মূসক আরোপ হবে। তবে এ সকল মশলার ক্ষেত্রে রেয়াত গ্রহণের হার হবে ১৫ শতাংশ। তবে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানায় এলটিইউ। তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চারটি বিষয় দেখিয়ে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি ও উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপযোগ্য বলে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ডেইরি মিক্সড মশলায় এভাবে ভ্যাট সুবিধা ও অব্যাহতির সুবিধা নিয়ে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে আসছে। বিষয়টি জানিয়ে ও মতামত চেয়ে এলটিইউ থেকে এনবিআরকে সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কোন কোম্পানির মশলায় কতটি উপাদান রয়েছে
বাজারে প্রাপ্ত বিভিন্ন কোম্পানির মশলার প্যাকেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোম্পানিভেদে একক ও মিক্স-এই দুই ধরনের গুঁড়া মশলার প্যাকেট বাজারে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একক মৌলিক বা প্রতি প্যাকেটে শুধু একটি মশলা রয়েছে এমন মশলা হলো- হলুদ, মরিচ, ধনিয়া ও জিরার শতভাগ শুকনো গুঁড়া প্যাকেটজাত মশলা। আবার কয়েকটি মশলার মিশ্রণে কোম্পানিগুলো বাজারে রেডিমিক্স বা রেসিপি মশলা বাজারজাত করছে। যাচাইয়ে দেখা গেছে, মাংস, হালীম, বিরিয়ানি, চটপটি, মেজবানি ইত্যাদির রেডিমিক্স বাজারে রয়েছে। যাতে এনবিআরের আদেশ বা এসআরও অনুযায়ী, রাজস্ব সুবিধা নিতে হলে কেবল চারটি মশলার মিশ্রণ বা রেডিমিক্স থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে পাওয়া রেডিমিক্সে ওই চারটি মশলা ছাড়াও অন্তত ১৫-২০ ধরনের মশলা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো চারটি মশলা দেখিয়ে রেডিমিক্সে ১৫-২০ ধরনের মশলার রেডিমিক্স বিক্রি করছে। যাতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে।
কোম্পানিগুলোর মশলা যাচাইয়ে দেখা গেছে, দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার গ্রুপ। স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের রাঁধুনী ব্র্যান্ডের ২০-২২ ধরনের মিক্স মসলা রয়েছে। যেমন- রাঁধুনী মাংসের মশলা। এতে হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, রসুন, মৌরি, আদা, জিরা, দারচিনি, লবণ, গোলমরিচ, চিনি, তেজপাতা, লবঙ্গ, জয়ত্রী ও এলাচসহ ১৬টি প্রাকৃতিক মসলার উপাদান রয়েছে। অথচ, এই মশলা চারটি মশলার উপাদান দেখিয়ে ভ্যাটের সুবিধা নিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। একইভাবে রাঁধুনী তেহারি মশলায় উপাদান হিসেবে রয়েছে- লবণ, আদা, মরিচ, চিনি, দারুচিনি, ধনে, রসুন, এলাচ, তেজপাতা, লবঙ্গ, জয়ত্রী, জয়ফল এবং সাদা গোলমরিচ। এছাড়া রাঁধুনী ব্র্যান্ডের মুরগির মাংসের মশলা, মাছের মশলা, কাবাব মশলা, বিরিয়ানি মশলা, বোরহানি মশলা, গরুর মাংসের মশলা, তেহারি মশলা, চটপটি মশলা, গরম মশলার গুঁড়া, গুঁড়া পাঁচফোড়ন, রোস্ট মশলা, মেজবানি গরুর মাংসের মশলা, হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি মশলা, কাচ্চি বিরিয়ানি মশলা, কালা ভুনা মশলা, বার-বি-কিউ মশলা, কোরমা মশলা, চিকেন তন্দুরি মশলা, চাট মশলা, খিচুড়ি মশলা, সরিষা ইলিশ মশলা, হাঁসের মাংসের মশলায় একইভাবে অন্তত ১০-২০টি মশলা ব্যবহার করা হচ্ছে।
অপরদিকে, প্রাণ এর বার-বি-কিউ মশলায় উপাদান হিসেবে রয়েছে মরিচ, ধনিয়া, জিরা, লবণ, আদা, রসুন, জোয়ান, এলাচ, তেজপাতা, কালোজিরা, গোলমরিচ, জয়ত্রি, দারুচিনি, জায়ফল ও লবঙ্গ রয়েছে। একইভাবে প্রাণ ব্র্যান্ডের হাঁসের মাংসের মশলা, কাস্টার্ড পাউডার, কর্ন ফ্লাওয়ার, বেকিং পাউডার, আচারী মাংসের মশলা, বোম্বে বিরিয়ানি মশলা, চটপটি মশলা, পায়া মশলা, কাবাব মশলা, চিকেন রোস্ট মশলা, চিকেন টিক্কা মশলা, মুরগির মাংসের মশলা, বিরিয়ানি মশলা, গরুর মাংসের মশলা, বার-বি-কিউ মশলা, তন্দুরী চিকেন মশলা, তেহারি মশলা, কাচ্চি বিরিয়ানি মশলা, মাছের মশলা, বোরহানী মশলা, আচারী মাংসের মশলা, স্বাদের মশলা, মাংসের মশলা ইত্যাদি ব্র্যান্ডের মশলায় চারটির অধিক বা ১০-১৫টি মশলার মিশ্রণ বা রেসিপি দেওয়া হচ্ছে। আহমেদ ব্র্যান্ডের পায়া মশলায় ধনিয়া, লবণ, সরিষা, হলুদ, লাল মরিচ, কালো গোল মরিচ, দারুচিনি, আদা, জিরা, তেজপাতা, রসুন, জায়ফল, এলাচ, মৌরি, লবঙ্গ, সাইট্রিক এসিড, পেঁয়াজ ও কাবাব চিনি রয়েছে। একইভাবে অন্যান্য সব ব্র্যান্ডের রেডিমিক্স মশলায় ১৫-২০ উপাদান পাওয়া গেছে।
প্যাকেজজাত মশলার বাজার ১০-১২ হাজার কোটি টাকা
খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত ব্র্যান্ডেড গুঁড়া ও মিক্স মসলার বাজারের আকার প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা। শহরায়ন এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে প্রক্রিয়াজাত মসলার বাজার প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে প্রতিবছর দেশের বড় কোম্পানিগুলো নতুন নতুন ব্র্যান্ড নিয়ে বাজারে আসছে। বর্তমানে বাজারে যেসব প্যাকেটজাত মসলা রয়েছে, তার মধ্যে বড় কয়েকটি শিল্পগ্রুপের হাত সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে রাঁধুনি ব্র্যান্ড নিয়ে মসলার বাজারের অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাজার দখল করেছে স্কয়ার গ্রুপের স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রাণ ব্র্যান্ডের দখলে রয়েছে ১৫ থেকে ১৯ শতাংশ বাজার। এসিআই গ্রুপের এসিআই পিউর এর দখলে ৮ থেকে ১০ শতাংশ, বিডি ফুড লিমিটেডের বিডি ফুড ৩ থেকে ৫ শতাংশ বাজার দখলে রয়েছে। এছাড়া ফ্রেশ, আহমেদ, আরকু, বেস্ট, বসুন্ধরা, ইফাদসহ অন্যান্য কোম্পানির বাজার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দখলে রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি শান ফুডস লিমিটেডের শান ব্র্যান্ড, ভারতে এমডিএইচ, এভারেস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাককরমিক, অস্ট্রেলিয়ার মাস্টারফুডস ব্র্যান্ডের গুঁড়া মশলা বাজারজাত করা হচ্ছে।
এসআরও সুবিধায় রাজস্ব ফাঁকি
দেশে গুঁড়া মশলার বাজার সম্প্রসারণে এনবিআর ভ্যাট সুবিধা দিয়েছে। মূসক তৃতীয় তফসিলের টেবিল-১ মূসক আরোপযোগ্য পণ্য হিসেবে বলা হয়েছে, গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ বা এই সকল মশলার মিশ্রণ হলে মূসক হার হবে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই চারটি মশলার মিশ্রণের রেডিমিক্স বাজারজাত করা হলে স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ে মূসক হার হবে ৫ শতাংশ। আর ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি থাকবে। তবে চারটির অধিক হলে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এনবিআর বলছে, প্রতিবছর ১২০০ কোটি টাকার মশলার বাজার হলে প্রতিমাসে বিক্রির পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা। সব কোম্পানি একইভাবে চারটির মিশ্রণ দেখিয়ে ১৫-২০ ধরনের মিশ্রণের মিক্সড মশলা বাজারজাত করে সরবরাহ পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা নিচ্ছে। অথচ সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ হলে প্রতিমাসে অন্তত কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে এনবিআরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় তফসিলে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘গুঁড়া মরিচ, ধনিয়া, আদা, হলুদ বা এই সকল মশলার মিশ্রণ’। অর্থাৎ চারটি মশলার মিশ্রণ থাকলে স্থানীয় সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট ৫ শতাংশ। কিন্তু দেশের যেসব কোম্পানি মিক্সড মশলা বা প্যাকেটজাত মশলা বাজারজাত করছে, তাতে ১৫-২০ ধরনের মশলা রয়েছে। চারটির বেশি থাকলে ৫ শতাংশের সুবিধা পাবে না। এই সকল মশলায় অবশ্যই ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। যেহেতু চারটির অধিক মশলা রয়েছে, সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ মূসক দিতে হবে, যা চারটি থাকলে অব্যাহতি পাওয়া যেতো। আমরা এলটিইউ থেকে চিঠি পেয়েছি। পর্যালোচনা করে আমরা ব্যবস্থা নিতে ভ্যাট অফিসকে নির্দেশনা দেবো।
