পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ

পোড়ামাটির ইটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে এর ওপর ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ব্লক প্রস্তুতকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক দেওয়ান মওদুদ আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি পাঠানো হয়।

চিঠিতে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি, ইটের বিকল্প হিসেবে কংক্রিট ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং নির্মাণ খাতে দূষণ কমানোর স্বার্থে বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির প্রস্তাবগুলো বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এনবিআরের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা-পর্যালোচনা করে ভ্যাট কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিবিপিএমএস) প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে প্রতিটি ব্লকের বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। এই হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, সরকারের পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরপর তিনটি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফলোআপ সভায় পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে কংক্রিট ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সরকারি নির্মাণকাজে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ব্লক ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিবীক্ষণের কথা বলা হয়।

গত ৩০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের ব্লকের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। পরে ১৬ আগস্ট পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভায় বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় সংগঠনটি মেশিনের ধরন ও বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতার ভিত্তিতে ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। বছরে এক কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার পিস ব্লক উৎপাদনকারী কারখানার জন্য বার্ষিক ভ্যাট পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

বিসিবিপিএমএসের সাধারণ সম্পাদক জুলকর শাহীন বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিভিন্ন সময়ে ব্লক খাতকে ভ্যাটমুক্ত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এ সুবিধা পাওয়া যায়নি। অথচ নীতিমালায় ব্লকের ওপর ভ্যাট ও আমদানি করা কাঁচামালের শুল্ক পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। ২০১৯ সালে সরকারি সব নির্মাণকাজে মাটি পুড়িয়ে তৈরি ইটের পরিবর্তে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু এখনো ইটের ব্যবহার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে সরকারি প্রকল্পে শতভাগ ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্য থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।