মডেল ও অভিনেত্রী মোছা. ইসরাত জাহান, ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীর দায়ের করা মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের মামলায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে তিনি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায়, মেডিকেল প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারিকুল ইসলাম। এর আগে, রবিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তি তাকে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ১৬ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ করেন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে মাকে সঙ্গে নিয়ে খিলক্ষেতের ৩০০ ফুট এলাকায় আশিয়ান মেডিকেল কলেজে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে বৈঠকে যান তিনি। বাসায় অতিথি থাকায় তার মা গাড়ি নিয়ে ফিরে গেলে তিনি একা সেখানে অবস্থান করেন।
এজাহার অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া স্নিগ্ধাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোকে আমি ছয় মাস ধরে খুঁজছি, তুই আমার টাকায় অন্য একজনকে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।’ স্নিগ্ধা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা বিশ্বাস করেননি। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় ইমন নামে উপস্থিত এক ব্যক্তি ইশারায় তার কথা মেনে নিতে বলেন। বাদীর ভাষ্য, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম একটি শটগান বের করে গুলি করার হুমকি দেন। পরে তার হাত-পা বেঁধে সোফায় ফেলে গলা চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এছাড়া চুল ধরে টেনে মেঝেতে ফেলে নির্যাতন চালানোরও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, নজরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে জোর করে কফি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়। পরে কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করার হুমকি দেওয়া হয়। তখন নজরুল ইসলাম তাকে “জেবা টাকিয়া” উল্লেখ করে দেড় কোটি টাকা নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে সংসার করার অভিযোগ তোলেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। স্নিগ্ধা বারবার নিজেকে অন্য ব্যক্তি নন বলে বোঝানোর চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত তা মানতে চাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মুখ চেপে ধরে জোর করে মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত অন্য কক্ষে চলে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে তিনি পালিয়ে বাসায় ফেরেন। এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এক দিন অচেতন ছিলেন স্নিগ্ধা। পরে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে রবিবার রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
