চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ; সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘নিরাপদ কর্মপরিবেশে: সবাই মিলে সবার জন্য’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে বিলস তাদের সংবাদপত্রভিত্তিক জরিপ–২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনামূলক তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে।
বিলস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহত ১৮৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ১৮৫ জনই পুরুষ এবং ১ জন নারী শ্রমিক। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন খাতে। এই তিন মাসে পরিবহন দুর্ঘটনায় ১০৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কৃষি খাতে ১৯ জন, নির্মাণ খাতে ১৪ জন, প্রবাসী শ্রমিক ও দিনমজুর ১১ জন করে, মৎস্য খাতে ৯ জন, বিদ্যুৎ খাতে ৬ জন এবং অন্যান্য বিভিন্ন খাতে ৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে মোট ৩৩৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পোশাক খাতের, যেখানে ২৫০ জন শ্রমিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। পোশাক খাত ছাড়াও ওয়ার্কশপ, পরিবহন, মৎস্য, পাদুকাশিল্প, স্টিল মিল, নির্মাণ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
সেমিনারে বক্তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তায় কিছু অগ্রগতি হলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তারা কার্যকর সেফটি কমিটি, শক্তিশালী পরিদর্শন ব্যবস্থা এবং শ্রম আইন বাস্তবায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’ বিলস-এর চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভুঞাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর লেবার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ওয়ার্কিং কন্ডিশনস প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামজুথান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) যুগ্ম-মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভূইয়া ও মো. মতিউর রহমান। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খানসহ শ্রমিক নেতা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সেমিনারে তাদের মতামত তুলে ধরেন। বক্তারা দ্রুততম সময়ে সব কর্মক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
