পরিত্যক্ত ৮ বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অচল বা পরিত্যক্ত থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংস্থাটির বোর্ডসভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বিস্তারের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার অপেক্ষায় রয়েছে।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য। এসব বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালিত হলেও দেশের অনেক সম্ভাবনাময়. অঞ্চল এখনো বিমান যোগাযোগ সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে সেসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে বোর্ডসভায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত অচল ও পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী ও কুমিল্লা বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অবকাঠামোগুলো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া স্বাধীনতার পর নির্মিত বগুড়া স্টলপোর্ট এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন শমশেরনগর বিমানবন্দর বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দর ও পটুয়াখালী স্টলপোর্টও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বর্তমানে সচল বিমানবন্দরগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য অচল বিমানবন্দরগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে ধাপে ধাপে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম, পর্যটন সম্ভাবনা এবং যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনায় কোন বিমানবন্দর আগে চালু করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে। অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে বগুড়া, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী বিমানবন্দর; এসব অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, সম্প্রতি এক সভায় ৮টি বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিমানবন্দরগুলোয় বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনায় উপযোগী কিনা সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। পরে একটি প্রস্তাব বিমান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন সাপেক্ষে সচলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় উপস্থিত সদস্যরা বলেন, এসব বিমানবন্দর চালু করা গেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকায় বিমান যোগাযোগ চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এ জন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও লাভ বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।