শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারদর গত কয়েক মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ জুন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা এই দর বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এর জবাবে কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই যা শেয়ারের দাম বা লেনদেনকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান দরবৃদ্ধি সম্পূর্ণ বাজার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে বলে প্রতীয়মান।
বাজার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের শেয়ারদর ছিল ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা, যা ২২ জুন লেনদেন শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ টাকা ৭০ পয়সায়। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে শেয়ারটির দাম ১২২ টাকা বা ৩৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। পাশাপাশি মোট শেয়ারের সংখ্যা রয়েছে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ৩৫৭টি।
আর্থিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই ২৫-মার্চ ২০২৬) শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ পয়সা। এক্ষেত্রে ব্যবসায় পতন ৩১ শতাংশ। এর আগে গত ২১ মে ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের পরিচালনা পর্ষদের ঋণের বিপরীতে শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গত বছরের ১১ নভেম্বর ডিএসই জানায়, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের পরিচালনা পর্ষদ ‘ড্যাফোডিল ফ্যামিলি কনসার্ন’ থেকে নেওয়া ঋণকে শেয়ারে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে। এ লক্ষ্যে তারা ১৫ টাকা অভিহিত মূল্যে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব দেয়, যার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই শেয়ার ইস্যু সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে এবং এর বিপরীতে ‘ড্যাফোডিল ফ্যামিলি কনসার্ন’ কোম্পানিটির শেয়ার পাবে। তবে প্রস্তাব অনুযায়ী, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে, অর্থাৎ মাত্র ১৫ টাকায় শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
